রাজবাড়ী: ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ২২ হাজার ৫০ টাকা, ছয়টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলফোন, দু’টি বাটন ফোন ও বিভিন্ন অপারেটরের ১২টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের মটরা গ্রামের মৃত এরফান মাতুব্বরের ছেলে চাঁন মিয়া (৫৪) এবং একই গ্রামের রোকন মাতুব্বরের ছেলে হাফিজুল মাতুব্বর (৩০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকাশ প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একটি মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঁন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাঙ্গার মটরা গ্রামে নিজ বসতবাড়ি থেকে হাফিজুল মাতুব্বরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মোন্নাফ শেখের (৫৬) মোবাইলফোনে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতারা নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে জানান, মোন্নাফের ছেলে মো. হুসাইন শেখ ও তার দুই বন্ধুকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়া হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।
একপর্যায়ে ছেলেকে মামলা থেকে বাঁচাতে ৭০ হাজার টাকা দাবি করে প্রতারকরা। টাকা না দিলে তার ছেলেকে জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। ছেলেকে বাঁচানোর আশায় প্রতারকদের দেওয়া একটি ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৫০ হাজার টাকা পাঠান মোন্নাফ শেখ।
টাকা পাঠানোর পর ওই নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইলফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাড়িতে ফিরে মোন্নাফ শেখ দেখতে পান, তার ছেলে হুসাইন বাড়িতেই রয়েছেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মোন্নাফ শেখ রাজবাড়ী সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘মামলাটি তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইলফোন, সিমকার্ড ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের পুলিশ প্রহরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো ফিশিং লিংকে প্রবেশ করা এবং কারও কাছে ওটিপি (OTP) শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’ এ ছাড়া প্রতারণার শিকার হলে বা এমন কোনো ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।