Sunday 20 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

সারাবাংলা ডেস্ক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৭ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৩৮

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবরে তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

তারেক রহমানের আগামী বৃহস্পতিবারের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের ৪ দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন

উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া।

এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ঢাকার জন্য আসন্ন এই ভাষণটি বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে, কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি পরিষদে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী রহমান তার প্রথম ভাষণে একটি ‘পরিবর্তনশীল বাংলাদেশ’-কে তুলে ধরবেন এবং বাস্তবসম্মত “বাংলাদেশ-প্রথম” (Bangladesh First) ভিত্তিক বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক সঙ্কটের টেকসই সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টিও এতে প্রাধান্য পাবে, কারণ ঢাকা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এ ক্ষেত্রে অধিকতর ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে। এছাড়া, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ক্ষেত্রে চলমান রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে রহমান বিশ্বনেতাদের—যাদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি—পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই কূটনৈতিক সফর নতুন সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর