ঢাকা: দুই কার্গো এলএনজি ও দেড় লাখ মেট্রিকটন সার আমদানি, চাইনীজ ইকোনমিক জোনের সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা ঠিকাদার এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে কন্ট্রাক্টর নিয়োগসহ ১০টি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, জি-টু-জি ভিত্তিতে ‘কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি’ থেকে দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত ২ কার্গো এলএনজি আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান চুক্তি থেকে ভিন্ন দরে এই দুটি কার্গো কেনা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি’র দর ধরা হয়েছে জেকেএম-০.০২ ডলার।
১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি
বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় বিএডিসি’র মাধ্যমে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে চারটি পৃথক প্রস্তাবে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার এবং ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ব্যয় হবে ৯৮২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
এর মধ্যে প্রতি মেট্রিক টন ৩৮৩.৮০ ডলার দরে কানাডা থেকে দুটি পৃথক প্রস্তাবে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার; একই দরে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার এবং প্রতি মেট্রিক টন ৮৮৫ ডলার দরে সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে।
চাইনীজ ইকোনমিক জোনের সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘চাইনীজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’-এর সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় একাধিক পূর্ত কাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন’ (সিআরবিসি) এ কাজটি করবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি ৯৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
এসপিএম’র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে কন্ট্রাক্টর নিয়োগ
বৈঠকে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এমপিএম)-এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে কন্ট্রাক্টর নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে কন্ট্রাক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে ‘পিটি পারটেমিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টাল’। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৯৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।
অন্যান্য ক্রয় প্রস্তাব
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ২০২২ সালে বন্যায় সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-সেতু ও কালভার্ট পুনঃনির্মাণের একটি পূর্ত কাজের প্যাকেজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ কাজটি করবে যৌথভাবে- ‘ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’ ও ‘মেসার্স বেলাল কনস্ট্রাকশন ‘। এতে ব্যয় হবে ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং পৃথক আরেকটি প্রস্তাকে ৫০টি প্যাকেজে ১ কোটি পিস পাটের বস্তা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৩টি প্রতিষ্ঠান এসব বস্তা সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ১১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সরবরাহ করবে ‘জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড’। প্রতি কেজি ডাল ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা দরে এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।