Thursday 24 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৫৮

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ সময় আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টায় (নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা) বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ভাষণ বাংলাদেশের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাদের ধারাবাহিকতায় এবার প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ ও অনুভূতি ধারণ করে বাংলায় জাতির কথা তুলে ধরে নতুন ইতিহাস গড়বেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৭টায় হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাহ্দী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি তুলে ধরতে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

মাহ্দী আমিন জানান, বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষের সার্বিক আশা-আকাঙ্ক্ষা, গভীর আবেগ ও অনুভূতিকে ধারণ করে তিনি বাংলায় বাংলাদেশের বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন।

তিনি জানান, সফরের দ্বিতীয় দিনে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ‘স্মার্ট ফার্মার কার্ড’-এর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে দেশে নিজস্ব ভ্যাকসিন উৎপাদন এবং সরকারের ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব নিয়োগের ৮০ শতাংশ নারী কর্মী হবেন বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে গেটস ফাউন্ডেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা এবং যৌথ অংশীদারত্বের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। শিগগিরই প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে ‘জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অতীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০১৭ সাল থেকে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের ব্যবস্থাপনার চাপ বাংলাদেশের ওপর বাড়ছে। এ কারণে বাংলাদেশ আরও বড় ও সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে।

দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও অভিবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা, স্বার্থরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে জানান মাহ্দী আমিন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্ট ট্রানজিশন’ সভায়ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো ও গ্রিন এনার্জি চালুর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।

বাণিজ্যিক কূটনীতির ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টিও তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামানসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর