সিলেট: শাহজালাল (র.) মাজারের দানের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সংলাপের মাধ্যমে টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘মাজারের আয় ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে জনকল্যাণ ও দ্বীনের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শাহজালাল মাজারের দানের স্বচ্ছতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে মাজারের দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ জেলা প্রশাসনের হিসাব এবং ৬৫ শতাংশ মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ না করে সংলাপের মাধ্যমে এমন একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে হবে, যা সবাই গ্রহণ করবে।’
তিনি কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘মাজারের দান ও আয় ব্যবহারের বিষয়ে সরকার, মাজারের খেদমতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ হওয়া উচিত।’
এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘মাত্র সাত মাসেই সরকার জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদের ভেতরে থেকেই সমাধান চেয়েছিলাম; কিন্তু সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে ঠেলে দিয়েছে। যৌক্তিক ও জনগণের দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার শুধু বিরোধীদলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করবে, কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কি জাতি দায়িত্বশীল আচরণ আশা করতে পারে না? জাতীয় সংকট দীর্ঘায়িত করার দায় সরকার এড়াতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ একক সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না, কথাও বলতে পারছেন না। একেক মন্ত্রী একেক কথা বলছেন। জ্বালানি বলেন, বিদ্যুৎ বলেন, সব বিষয়েই সরকারের মন্ত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করছে।’
স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একদিকে বলা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, অপরদিকে নির্বাচনের দিনক্ষণ তারাই ঠিক করে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে। একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেটি স্পষ্টভাবে জাতিকে জানাতে হবে।’
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এ মহাসড়ক নিয়ে সরকারের একেক মন্ত্রী একেক কথা বলছেন। কেউ বলছেন ২০২৮ সালে, আবার কেউ বলছেন ২০২৯ সালে কাজ শেষ হবে। ঠিক কোনটি হবে, সেটা সরকারই বলতে পারবে। আমরা শুধু চাপ সৃষ্টি কিংবা সুপারিশ করতে পারি।’
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব দ্রব্যমূল্যে পড়বে না বলে বাণিজ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, সে প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘মন্ত্রী ঠিক না বেঠিক বলেছেন, সেটি মানুষ নিজের চোখেই দেখতে পারছে। এরইমধ্যে যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে, দ্রব্যমূল্যও বাড়তে শুরু করেছে। দিন দিন পরিস্থিতি চরমে পৌঁছাবে না, এর নিশ্চয়তা কী? তাই মন্ত্রীদের দায়িত্বশীল কথা বলা উচিত।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জামায়াতের এক্সপার্ট টিম সরকারকে কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছিল। কিন্তু সরকার সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদলের আন্দোলন নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সরকার নানা বিতর্ক তুলছে।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি কেবল নামেই আছে। এর অবকাঠামোগত ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
হাম আক্রান্ত ও হামে মৃত্যু রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভারত ও চীনের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও বলেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-ঊন-নূর, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহাজান আলী এবং জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনসহ অনেকেই।