ঢাকা: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং চারদিনের ব্যস্ত কর্মসূচিতে ৩০টি আনুষ্ঠানিক বৈঠক, সভা ও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
দুবাইয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টার যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় রাত ২টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর আগে পাঁচদিনের সফরে ২১ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, নিউইয়র্ক সফরে মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, অধিবেশনের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রফতানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। ৮১তম অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তার বৈঠক হয়।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া, ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইটটি ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে আজ ভোরে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শেষ হচ্ছে। সফরে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।