ঢাকা: বাংলা কিউআর (Bangla QR) কোডভিত্তিক লেনদেন বাড়াতে প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ উদ্যোগের আওতায় ব্যক্তি রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ডেড ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের মার্চেন্ট পেমেন্টের পাশাপাশি পণ্য ও সেবা গ্রহণকারী গ্রাহকদেরও প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমের সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনে সর্বসাধারণকে অধিকতর উৎসাহ দেওয়ার জন্য পিএসডি-২ সার্কুলারের নির্দিষ্ট একটি অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় লেনদেন বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ডেড ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারী মার্চেন্ট পেমেন্টের পাশাপাশি পণ্য ও সেবা গ্রহণকারী সব মার্চেন্ট পর্যায়ে সম্পাদিত ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে এককালীনভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ০.৫০ শতাংশ হারে এবং ইস্যুরিং প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
অর্থাৎ, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনকে কেন্দ্র করে মার্চেন্ট ও গ্রাহক—উভয় পক্ষকে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তবে প্রণোদনার হার নির্ধারণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষের ভূমিকা অনুযায়ী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় আগের সার্কুলারের অন্যান্য শর্ত ও বিধান অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে শুধু প্রণোদনা-সংক্রান্ত বিধানটিই পরিবর্তন করা হয়েছে, অন্য নিয়মগুলো আগের মতোই কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনকে আরও জনপ্রিয় করা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী এবং সেবা প্রদানকারীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আনার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রণোদনা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলা কিউআর হচ্ছে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতার মাধ্যমে ব্যবহারের উপযোগী একটি অভিন্ন কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক নির্দিষ্ট মার্চেন্টের কিউআর কোড স্ক্যান করে ডিজিটালভাবে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। নতুন প্রণোদনা কাঠামোর ফলে ছোট অঙ্কের লেনদেনে গ্রাহক ও মার্চেন্ট—দুই পক্ষেরই বাংলা কিউআর ব্যবহারে আগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক, এমএফএস, পিএসপি, পিএসও ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমকে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য বলা হয়েছে।