Monday 28 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সুন্দরবনে দুই দিনে ২১ জেলে অপহরণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৮ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৯

বাগেরহাট: পূর্ব সুন্দরবনের পৃথক এলাকায় হামলা চালিয়ে গত দুই দিনে অন্তত ২১ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। সাগরে ও বনের খালে মাছ ধরার সময় সশস্ত্র বনদস্যু দল অতর্কিত হামলা চালিয়ে জেলেদের ট্রলারযোগে তুলে নিয়ে যায়। পরপর অপহরণের ঘটনায় উপকূলীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ শনিবার দিবাগত রাতে সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকা এবং ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে ১৫ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে একই সময়ে সুন্দরবনের পৃথক স্থান থেকে আরও ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সাগরসংলগ্ন সুন্দরবনের ভাঙ্গা, আমবাড়ীয়া ও নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় জেলেরা যখন মাছ ধরছিলেন, তখন অজ্ঞাতপরিচয় বনদস্যুরা জেলেবহরে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন নৌকা থেকে ১৫ জনকে তুলে একটি ট্রলারে নিয়ে যায়।

অপহৃতদের মধ্যে ১২ জন জেলের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- খুলনার আরিফ (২৫), সগীর (৩৪), মিঠু (৩০) ও ফেরদাউস (২৮); বরগুনার পাথরঘাটা ও তালতলী এলাকার ইব্রাহিম (৩৫), ইমরান (২৫), মোস্তাফিজুর (৩৫), আলামিন (২৮), হানিফ (৩৮) ও মারুফ (৪৯); এবং মোংলার উলুকাটা চিলা এলাকার মাসুদ ইজারদার (২৮) ও ইমদাদুল ইজারদার (৩০)।

ফরেস্ট রেঞ্জার জানান, এসব জেলে বন বিভাগের অনুমতিপত্র (পাশ) নিয়ে চরপাটা, পোকা জাল ও বড়শি দিয়ে সুন্দরবনের খালে মাছ ধরছিলেন।

এদিকে মোংলার একজন জেলে মহাজন জানান, শনিবার রাতে বনদস্যু করিম-শরীফ বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবনের ঝাপসি এলাকার ভদ্রা নদী থেকে মাসুদ ও ইমদাদুলকে অপহরণ করে। এছাড়া মেহেরআলী এলাকা ও শ্যালা নদীর মুখসহ পৃথক স্থান থেকে বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর’ সশস্ত্র সদস্যরাও জেলেদের জিম্মি করে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মহাজনরা জানান, যেসব জেলের নৌকায় দস্যুদের নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধের কার্ড ছিল না, মূলত তাদেরকেই লক্ষ্য করে অপহরণ করা হচ্ছে। অনেক মহাজন নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতি ‘গোনে’ (জোয়ার-ভাটার সময়কাল) ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দিয়ে দস্যুদের কার্ড সংগ্রহ করেন। তবে যাদের কার্ড ছিল না, তাদের আটকে রেখে এখন মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই এসআরবি, কোস্টগার্ড ও বন প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে । অপহৃত নিরীহ জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, ২১ জেলে অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ডের দুটি দল সংশ্লিষ্ট এলাকায় জোরদার তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

সুন্দরবনে নতুন করে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। অপহৃত জেলেদের দ্রুত জীবিত উদ্ধার এবং সুন্দরবনকে পুনরায় দস্যুমুক্ত করতে কঠোর যৌথ অভিযানের দাবি জানিয়েছেন শরণখোলা ও মোংলা এলাকার জেলে-মহাজনরা।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

সুন্দরবনে দুই দিনে ২১ জেলে অপহরণ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৮

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৯৯
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩১

আরো

সম্পর্কিত খবর