ঢাকা: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে এদিন গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিনের আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
এ মামলায় মাকছুদা ইসলাম এক দিনের রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে যান। অপর আসামি মো. ওবায়দুর রহমানকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়।
মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মো. ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসব বিষয় মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহকে তার বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকজনকে দেখতে পান। পরে বাসার একটি কক্ষে মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় মরিয়মের বিছানায় হাতে লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায় বলেও মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে। সেখানে স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের প্রতি বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিক কষ্টের কথা লেখা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের বাবার অভিযোগ, মো. ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। পরে স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেন।