Wednesday 23 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ভাগ্নিকে নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দেয় মামা’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:৫৫

এমপি জিএম নজরুল ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের গাড়ি চালক মো. ওবায়দুর রহমান। আর এই ওবায়দুরের বোনের মেয়ে হলো আত্মহত্যা করা মোছা মরিয়ম খাতুন (১৯), যিনি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। কিন্তু মামা ওবায়দুর স্বার্থ হাসিলের জন্য তার ভাগ্নি মরিয়মকে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওবায়দুরের প্ররোচণায় এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বাসায় ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনার পর দিবাগত রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর করা মামলায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তবে বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

গত ২০ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর থানাধীন শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিং এর ২০৩ নম্বর বাসা থেকে ভিকটিম মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত মরিয়মের পিতা এস এম মাসুম বিল্লাহ (৪০) বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিরা হলেন— সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫), তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম (৬৫), এবং মরিয়মের মামা (বাদীর শ্যালক) মো. ওবায়দুর রহমান (৩৮)।

ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচণার কথা উল্লেখ করে এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘তার বড় মেয়ে ভিকটিম মরিয়মের (১৯) সঙ্গে গত জুন মাসে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক এমপি গাজী নজরুলের বিয়ে হয়। মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচণায় এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের পর মরিয়মকে শেরে বাংলা নগর এলাকার নাম ভবনে রেখে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি পেশায় একজন মুদি দোকানদার। আমার তিন মেয়ে। গাজী নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি আমার মেয়েকে এবং আসামির প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকাস্থ সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় ২০৩ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন। বিয়ের পর থেকেই তারা আমার মেয়ে মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে মেয়ে বিভিন্ন সময় মোবাইল করে জানায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় গাজী নজরুল ইসলাম আমাকে ফোন করে দ্রুত তার বাসায় যেতে বলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন আমি আমার শ্যালিকা সুফিয়াকে সাথে নিয়ে একটি সিএনজি যোগে চলে আসি। বাসায় এসে দেখি যে অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত। তখন আমি জানতে পারি যে, বাসার ভেতরের রুমে আমার মেয়ে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। রুমের দরজা ভিতর থেকে লাগানো ছিল। তখন আমার উপস্থিতিতে শাবল দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ফেলা হয়। ভেতরে প্রবেশ করে আমার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলানো অবস্থায় আমরা দেখতে পাই। আর আমার মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পাই।’

সুইসাইড নোটের বিবরণ দিয়ে মরিয়মের বাবা বলেন, “লেখা আছে- ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তাহা না হলে যতোটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই… আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমে ছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি, তুমি জিতেছো কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়ে মুখে হাসি রেখেছি, ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ’সহ আরও অনেক কিছু লেখা আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে যেকোনো সময়ে আমার মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’

এর আগে, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, মরিয়মের মামা তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য ওই ভিডিও গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি এই ভিডিওসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে এমপি নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন!

অন্যদিকে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আদালত আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলায় মরিয়মের মামা ওবায়দুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবেদনে আবেদনে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুরের জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মরিয়মের বিয়ের আগে থেকে এমপি নজরুলের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার যুক্ত বিষয়টি তদন্তে জানা যায়। মামলার সুষ্টু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটক রাখা হোক এবং ভবিষ্যতে তার রিমান্ড চাওয়া হবে।’

সারাবাংলা/এমএইচ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর