ঢাকা: সুপ্রিম কোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়সহ বিচারাঙ্গনের কোথাও অনিয়ম, অনাচার বা দুর্নীতি চোখে পড়লে তা বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।’ পেশাগত জীবনে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সুখ-দুঃখ ও পেশাগত চ্যালেঞ্জগুলো তিনি কিছুটা হলেও বোঝেন।
তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় বা প্রশাসনের কোথাও অনিয়ম-অনাচার কিংবা দুর্নীতি সাংবাদিকদের নজরে এলে তা বস্তুনিষ্ঠভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।’
আদালতকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের ইতিবাচক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালতকেন্দ্রিক বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এবং এর কয়েকটির সুফল পাওয়া গেছে।’
একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে একই বিষয়ে তিনটি আদালতে পিটিশন করার ঘটনা তার নজরে এসেছে। এর আগে একটি বেঞ্চ স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারও করেছিল।’ এরপরও আদালতের আদেশের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় আদেশ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতের নজরে এনেছেন এবং এটিকে গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে দেখেছেন। সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলো আদালতে আসার পর পরবর্তী আদেশ দেওয়ার বিষয়ে আদালত অপেক্ষা করছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এ প্রতিষ্ঠান আমাদের রুটি-রুজির জায়গা। অধিকাংশ মানুষই এখানে হালাল রুজি উপার্জন করি। দু-একজনের অনিয়মের কারণে যেন পুরো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এই জায়গায় সংবাদকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।’
তবে আদালতে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিচারাঙ্গনের অসংগতিগুলো দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক দিকগুলোও সংবাদে তুলে ধরা প্রয়োজন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অতি সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির কর্মতৎপরতায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব বিষয়ও সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে।’
‘শুধু নেতিবাচক সংবাদ নয়, বিচারাঙ্গনে যেসব মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, সেসব ঘটনাও প্রচার করতে হবে। আদালত সম্পর্কে যেন কোনো ভুল বার্তা না যায়। মানুষ সঠিক তথ্য জানুক— এটাই আমাদের প্রত্যাশা,’ বলেন তিনি।
এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে থেকে এসআরএফের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে মূল ভবনের ফোয়ারার সামনে গিয়ে শেষ হয়।
দুপুর ১টায় কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এসআরএফ সভাপতি মো. দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এ সময় হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. নুরুল আমিন বিপ্লব, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার), ডুলার সভাপতি শেখ আলী আহমেদ খোকন, বাংলাদেশ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান, ব্যারিস্টার এইচএম সানজিদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
র্যালিতে এসআরএফ সভাপতি মো. দিদারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম, সাবেক সভাপতি মাসউদুর রহমান রানা, জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য মাজহারুল হক মান্না, কোষাধ্যক্ষ ইমন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম ফকির, দফতর সম্পাদক রাব্বি হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান নাফিজ, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রুবেল, কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দা সাবরিনা মজুমদারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এবং সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং আদালতসংক্রান্ত সংবাদ দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের যাত্রা শুরু হয়।
দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।