ঢাকা: পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং, আধুনিক শিক্ষা ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সমতলের শিক্ষার্থীদের সমতুল্য সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত আগস্ট মাসের পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপিও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং, আধুনিক শিক্ষা ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সমতলের শিক্ষার্থীদের সমতুল্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাহাড় ও সমতলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা একদিন বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ এবং গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজিতে তাদের অগ্রগতি দেখানো হলে প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ঢাকার একজন শিক্ষার্থী কিংবা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার একজন শিক্ষার্থী—যোগ্যতা থাকলে সবার সামনে সমান সুযোগ থাকবে। পাহাড়ের মেধাবী সন্তানরা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশের অর্থনীতি ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখবে।
পাহাড়ের নারীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সুপেয় পানি সরবরাহের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাহাড়ের নারীরা যুগের পর যুগ দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে আসছেন। সুপেয় পানি সরবরাহের মাধ্যমে তাদের এই কষ্ট লাঘব করতে হবে।
একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করে আধুনিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রত্যন্ত এলাকায় সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ভূমিধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিবেশ ও প্রতিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এডিপিভুক্ত প্রকল্প ও স্কিমগুলোর আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে সরকারি অর্থ ও প্রকল্প সহায়তাসহ মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা ও অতুল সরকার, উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।