ঢাকা: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ চার আসামি খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তাদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির এ তথ্য জানিয়েছেন।
আপিল করা অন্য তিন আসামি হলেন- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।
মামলার রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ গত ২৪ আগস্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের সাজা বহাল রাখেন। চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।
যাবজ্জীবন পাওয়া চারজন হলেন- নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।
হাইকোর্টে খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবছার উদ্দিন এবং মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর। তারা ইতোমধ্যে কারামুক্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আখতার। ওই মামলায় সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার পর নুসরাতের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়—মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে এসব অভিযোগ উঠে আসে। গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল হয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক গ্রহণ করা হয়। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে ৩০ সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।
গত ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায়ে ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট ১৬ আসামির সাজা নিয়ে সিদ্ধান্ত দেন। এবার হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে চার আসামি খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলেন।