ফরিদপুর: ফরিদপুরে এক মাদরাসা শিক্ষার্থী কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পৃথক দু’টি ধারায় ২ লক্ষ বিশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায় চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এই রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মোহন বিশ্বাস ও তাইয়েব মাতুব্বর। আসামিরা জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর প্রতিবেশি আসামি মোহন বিশ্বাস বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেলে বাড়ির কাছ থেকে তুলে নিয়ে যায়। ওই দুই যুবক মাইক্রোবাসের মধ্যেই জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা শাহাদাত শিকদার বাদি হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ মোহন বিশ্বাস ও তায়েব মাতুব্বরকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রতন রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে শিশু অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত দুই আসামিকে দুই ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’