Tuesday 06 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

লোহারপুল খালের উন্নয়নের জন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিলেন ইশরাক

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৭ | আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫২

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

ঢাকা: রাজধানীর লোহারপুল খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় খালের উভয় তীরে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সোমবার (৫ অক্টোবর) এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, লোহারপুল খালটি সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি নিষ্কাশন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বর্তমানে খালের পাড়ের অপরিকল্পিত ব্যবহার, ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ, অবৈধ দখল এবং যথাযথ অব্যবস্থাপনার কারণে এর প্রাকৃতিক নান্দনিকতা ও পরিবেশগত কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এমতাবস্থায়, নির্বাচনি এলাকার জনসাধারণের নাগরিক সুবিধা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী চিঠিতে ৫টি সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। তার অনুরোধগুলো হলো-

বৃক্ষরোপণ: লোহারপুল খালের উভয় পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানো।

ওয়াকওয়ে নির্মাণ: খালের পাড়ের উপযোগী স্থানে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ওয়াকওয়ে তৈরি করা।

নাগরিক সুবিধা: ওয়াকওয়ের পাশে বসার বেঞ্চ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা (স্ট্রিট লাইট) এবং ডাস্টবিন স্থাপন করা।

দখল ও বর্জ্য নির্মূল: খালের পাড়ে অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনা ফেলা প্রতিরোধ করা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

নিরাপত্তা বেষ্টনী: পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় রেলিং বা সুরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা।

প্রতিমন্ত্রী চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সমন্বিত উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে লোহারপুল খালের পরিবেশ ও নান্দনিকতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি স্থানীয় জনগণের জন্য একটি নিরাপদ হাঁটার স্থান এবং উন্মুক্ত নাগরিক পরিসর তৈরি হবে।

একই সঙ্গে এটি সবুজায়ন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদে খাল সংরক্ষণে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

চিঠির শেষাংশে জনস্বার্থ ও পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়।

একই সঙ্গে একটি দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।