Tuesday 06 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কালো জাদুর অভিযোগে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৫৩

গুরুদাসপুর থানা, নাটোর।

নাটোর: নাটোরের গুরুদাসপুরে কালো জাদুর অভিযোগ তুলে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে সড়কে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার ভাই ইয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই নারীদের একটি ঘরে আটকে রেখে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে গুরুদাসপুর পৌরসভার গাড়িষাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই ঘটনার দু’টি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ছড়িয়ে পড়া প্রায় দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিন নারীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামের পাকা সড়কে ঘোরানো হচ্ছে। এ সময় তাদের পেছনে বেশ কিছু মানুষকে হাঁটতে ও হৈ-হুল্লোড় করতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

অপর একটি ভিডিওতে জিয়াউর রহমান জিয়ার বাড়ির একটি কক্ষে ওই তিন নারীকে আটকে রাখা অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে সাবলু নামে এক ব্যক্তি সংবাদকর্মীদের ক্যামেরার সামনেই তাদের কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিচ্ছেন। পাশেই মোবাইলফোনে ভিডিও করছিলেন জিয়া।

স্থানীয়দের দাবি, তান্ত্রিকের সূত্রে জিয়াউর রহমান জিয়ার ভাতিজিকে ‘কুফরি কালাম’ ও ‘কালো জাদু’ করে ‘বান’ মারার অভিযোগ তোলা হয় ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে।

এরপর ওই অভিযোগের শাস্তি হিসেবে দুই মধ্যবয়সী নারী ও এক তরুণীকে বাড়ি থেকে তুলে এনে জুতার মালা পরিয়ে সড়কে ঘোরানো হয়। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় তাদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগ, জোর করে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করেন ইয়ারুল। কালো জাদু করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাদের প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে। পরে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন তারা।

তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করে সোমবার সন্ধ্যায় ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইয়ারুল ইসলাম।

তার দাবি, প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কবিরাজের মাধ্যমে ওই তিন নারী তার মেয়েকে ‘কুফরি কালাম’ ও ‘বান’ মেরেছেন। এতে তার মেয়ের শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

অভিযুক্ত গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল হান্নান বলেন, ‘তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে সড়কে ঘোরানোর বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’