হলিউড বক্স অফিসে দীর্ঘদিনের এক রেকর্ড পুনরুদ্ধার করেছে মার্ভেল স্টুডিওর সাড়া জাগানো সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। জেমস ক্যামেরনের বিখ্যাত সিনেমা ‘অ্যাভাটার’-কে পেছনে ফেলে এটি আবারও সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়ের চলচ্চিত্রের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’। এই নতুন সিনেমার প্রচার ও দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়াতে গত মাসে মার্ভেল স্টুডিও ও ডিজনি যৌথভাবে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ পুনরায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়। রি-রিলিজের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে ঝড় তোলে সিনেমাটি এবং ১২৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করে।
এই নতুন আয়ের সুবাদে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর মোট বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯২৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার’-এর মোট সংগ্রহ ২ দশমিক ৯২৩ বিলিয়ন ডলার। সামান্য ব্যবধানে জেমস ক্যামেরনের মাস্টারপিসকে টপকে এক নম্বরে চলে এল মার্ভেল সুপারহিরোদের এই মহাকাব্য।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মুক্তির পর টানা এক দশক বিশ্ব বক্স অফিসের মুকুট ছিল অ্যাভাটারের মাথায়। তবে ২০১৯ সালে মুক্তির পরই প্রথমবার সেই রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে বসেছিল এন্ডগেম। এরপর ২০২১ সালে অ্যাভাটার পুনরায় মুক্তি পেয়ে মুকুট পুনরুদ্ধার করলেও, পাঁচ বছর পর বর্তমান রি-রিলিজের মাধ্যমে সেই সিংহাসন আবার নিজেদের দখলে নিল এন্ডগেম।
বক্স অফিসের এই শীর্ষ লড়াইয়ে ফলাফল যার পক্ষেই যাক না কেন, আসল লাভবান হয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডিজনি। ২০১৯ সালে টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স অধিগ্রহণের মাধ্যমে ‘অ্যাভাটার’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স’—উভয় সিনেমারই স্বত্ব এখন ডিজনির হাতেই। বর্তমান বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়ের শীর্ষ ১০ সিনেমার ৭টিই এখন এই প্রতিষ্ঠানের দখলে।
অ্যান্থনি রুশো ও জো রুশো পরিচালিত ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভান্স, মার্ক রাফালো, ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও স্কারলেট জোহানসনের মতো তারকারা। মার্ভেল ভক্তদের জন্য সুখবর হলো, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ আগামী ১৮ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
সর্বোচ্চ আয় করা শীর্ষ ৫ সিনেমা:
১. অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (২.৯২৫ বিলিয়ন ডলার),
২. অ্যাভাটার (২.৯২৩ বিলিয়ন ডলার),
৩. স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে (২.৫০৫ বিলিয়ন ডলার),
৪. অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার (২.৩৩৪ বিলিয়ন ডলার),
৫. টাইটানিক (২.২৫৭ বিলিয়ন ডলার) ।