গোবিপ্রবি: গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তায় উত্ত্যক্ত ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে চার বহিরাগতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারজনের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রক্টরের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ওই শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেজেন্টেশন শেষে ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। পথে চারজন বহিরাগত তার এক পুরুষ সহপাঠীকে ডেকে ভয় দেখিয়ে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান।
অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই সহপাঠী সেখান থেকে চলে আসেন। পরে তারা বাসায় ফেরার সময় অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের পিছু নেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তারা অটোরিকশায় করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। এসময় অভিযুক্তরাও তাদের পিছু নিয়ে ক্যাম্পাসেও প্রবেশ করেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে প্রক্টরের কাছে সোপর্দ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় অপর একজন পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— তাজিম চৌধুরী (১৯), সোহাগ (১৯), সম্পদ বিশ্বাস (২১) ও ইউসুফ বিশ্বাস (২১)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চারজনের মধ্যে তিনজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং একজন পলাতক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, ‘ইভটিজিংয়ের যে ঘটনাটি ঘটেছে, এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। অবশ্যই এখানে নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি ঘাটতি ছিল। এ বিষয়ে আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মামলা করেছি। ওসি সাহেবের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে খুবই আন্তরিকতা দেখিয়েছে এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রক্টর। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।’