ফরিদপুর: ফরিদপুরে কিশোর ওমর আলী নিহতের ৫ বছর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে নজরুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আসামি নজরুল ইসলাম রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি থানার জঞ্জল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির ঢোলজানী গ্রামের একটি ঘাস খেত থেকে ওমর নামের এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের ৩ দিন পর লাশ উদ্ধারের এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদীয় হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ক্লুলেস হত্যা মামলাটি একমাস পরে পিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। লাশের সুরতহালে অণ্ডকোশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সূত্র ধরে মামলার তদন্ত করে পিবিআই। দীর্ঘ তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে আসামি নজরুল কে শনাক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার একটি বাসা থেকে আসামি নজরুল কে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সে বিভিন্ন জেলায় ছদ্মবেশে বসবাস করত। গ্রেফতার আসামির দেওয়া তথ্য মতে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ওমরের পরকীয়া ছিল এমন ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করা হয়। এজন্য ৫০ হাজার টাকায় চুক্তিসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা করে। এরপর তারা একসঙ্গে মাদক সেবন করেন। ওই দিন রাতে ওমর বাড়ি ফেরার পথে তাকে ধরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে রেখে মারধর করে ও চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
পরের দিন ৬ সেপ্টেম্বর ওদের মধ্যে একজন ওমরের বাবার কাছে জানতে চায় তাকে পাওয়া গেছে কিনা? তার বাবা জানায়, আগামীকাল গ্রামের চৌকিদারকে নিয়ে ওর পরিচিত ও বন্ধুদের বাড়িতে খুঁজতে যাবো। এই কথা শুনার পর ভয় পেয়ে ওই দিন রাতে তাকে মেরে লাশ গুম করতে পাশের ঘাস খেতে ফেলে যায় তারা।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এই ঘটনায় ৫ জন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আসামি নজরুল ইসলাম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের জড়িত অন্য সদস্যদের ধরাসহ আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।