Thursday 08 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অভিযোগের স্তূপ / অগ্রণী ব্যাংকে অর্থ আত্মসাৎ থেকে শুরু করে লকার-ভল্ট কাণ্ড

আদিল খান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ অক্টোবর ২০২৬ ২১:১৫

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি। ফাইল ছবি

ঢাকা: অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অর্থ আত্মসাৎ, জাল সই ও নথি ব্যবহার, একই সম্পত্তি একাধিক ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়া, লকার থেকে স্বর্ণালংকার বের করে নেওয়া এবং ভল্ট থেকে কোটি কোটি টাকা গায়েব হওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ ও ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে এসেছে। আবার কোনো ঘটনায় ব্যাংক নিজেই মামলা করেছে।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক অভিযোগটি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখাকে ঘিরে। সেখানে ব্যাংকের জমা স্লিপ ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫৫ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগকে আটক করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখায় এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের ৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সই জালিয়াতি এবং একই সম্পত্তি সোনালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে বন্ধক দেখিয়ে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ব্যাংকের তদন্তেও ওই কর্মকর্তার ভূমিকার কথা উঠে এসেছে।

এদিকে রাজধানীর রমনা করপোরেট শাখার লকার থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার বের করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কানাডাপ্রবাসী এক নারী। আর চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে চার কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েবের ঘটনায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, লকার ও ভল্ট ব্যবস্থাপনা, ঋণের বিপরীতে বন্ধক যাচাই এবং কর্মকর্তাদের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সই জালিয়াতি এবং একই সম্পত্তি দুই ব্যাংকে বন্ধক দেখিয়ে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সময় তিনি ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় কর্মরত বলে ব্যাংকের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার কার্যবিবরণী, তদন্ত প্রতিবেদন ও ভুক্তভোগীর আবেদনের তথ্যানুযায়ী, রজিনা আক্তার ও তার স্বামী মো. দেলোয়ার হোসেন ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখায় ৭০ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার জমা দেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থ রজিনা আক্তারের হিসাবে জমা না করে অন্যভাবে তুলে নেওয়া হয়।

তদন্তে সংশ্লিষ্ট হিসাবের সই জাল করে সম্পত্তি বিক্রির অর্থ ক্যাশ ডেবিটের মাধ্যমে নগদায়ন এবং পরে তা অন্য হিসাবে স্থানান্তরের বিষয়ও উঠে আসে। ভুয়া আবেদনপত্র, ঘষামাজা ও ভুয়া সইয়ের মাধ্যমে এসব অনিয়ম করা হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্তে এসব কাজে মাহমুদুল হাসানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও সইয়ের বিষয়ও উঠে এসেছে।

একই সম্পত্তি দুই ব্যাংকে বন্ধক

অভিযোগের আরেকটি অংশ হলো একই সম্পত্তি দুই ব্যাংকে বন্ধক রাখা। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় থেকে কর্মচারী গৃহনির্মাণ ঋণ নিয়ে কেনা একটি জমি ও বাড়ি ওই ব্যাংকের কাছে বন্ধক ছিল।

সোনালী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ বা অনাপত্তিপত্র না নিয়েই একই সম্পত্তি অগ্রণী ব্যাংকে পুনরায় বন্ধক দেখিয়ে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। তদন্ত দলের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সম্পত্তিটি সোনালী ব্যাংকে বন্ধক থাকার বিষয়টি জানার পরও মাহমুদুল হাসান তা কেনেন। এ কারণে তাকেও অনিয়মের জন্য দায়ী করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রজিনা আক্তার অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে দেওয়া আবেদনে তার ৭০ লাখ টাকা ফেরত এবং মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তদন্ত হলেও শাস্তি নিয়ে প্রশ্ন

ভুক্তভোগীর আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার পর অগ্রণী ব্যাংকের ২৫তম মানবসম্পদ সভায় অভিযুক্ত সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ২৫ জুলাই ২০২৫ সালের সভাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের শাস্তি না দিয়ে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনে মাহমুদুল হাসান ছাড়াও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখা ও রমনা করপোরেট শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. ফিরোজ উদ্দিন, ইকবাল হাসান সাগর, মো. মনিরুজ্জামান ও মোহাম্মদ কাউছার খানের নাম এসেছে। অনিয়মে সহযোগিতা ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

রমনার লকার থেকে বের করে নেয় তিন কোটি টাকার স্বর্ণালংকার

অগ্রণী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার লকার থেকেও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার বের করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কানাডাপ্রবাসী ফারজানা রহমান লিমার অভিযোগ, তার সই জালের মাধ্যমে ভুয়া ঘোষণাপত্র তৈরি করে ব্যাংকের ৪০৯ নম্বর লকার খোলা হয় এবং সেখান থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার বের করে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কমন সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্টে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৫ জুন কানাডায় যাওয়ার সময় তিনি ওই লকারে নিজের ও মায়ের স্বর্ণালংকার রেখে যান। তার নিজের স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং মায়ের স্বর্ণালংকারের দাম প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে দাম প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

ফারজানার মা ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মারা যান। ফারজানা তখন কানাডায় ছিলেন। ফারজানার অভিযোগ, পরে তার বোন ফারহানা রহমান লকার পরিচালনার আবেদন করেন এবং তার সই জাল করে একটি ঘোষণাপত্র ব্যাংকে জমা দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ওই ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে লকার খোলা হয় এবং সেখান থেকে ফারজানা ও তার মায়ের স্বর্ণালংকার বের করে নেওয়া হয়। দেশে ফিরে ২০২৬ সালের আগস্টে বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফারহানা রহমান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অভিযোগগুলো ‘১০০ শতাংশ মিথ্যা’।

দুটি চেক ব্যবহার করে ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

লকারের স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি নিজের দুটি চেক ব্যবহার করে ৬৮ হাজার ৫০০ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ফারজানা। তার দাবি, বিদেশ যাওয়ার আগে মায়ের প্রয়োজনীয় খরচের জন্য তিনি দু’টি চেকে সই করে রেখে গিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই চেকের দুটি পাতা ব্যবহার করে ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই ও ৩ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করা হয়।

চট্টগ্রামে ভল্ট থেকে চার কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব

চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে চার কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনায়ও মামলা হয়েছে। ব্যাংকের করা মামলায় সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন এবং তার সহযোগী মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে নগদ অর্থ ও ভল্টের হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল ধরা পড়ে। পরে হিসাব, ভল্টের রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। কামরুল হোসেন ওই ঘাটতির বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকের অভিযোগ, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, ভল্টে টাকা রাখার সময় এক হাজার টাকার বড় বান্ডিলের মধ্যে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিল দেখে ভল্টে টাকা থাকার ধারণা পাওয়া গেলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামের একটি গরুর খামারে বিনিয়োগ করা হয়।

তবে জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তানভীর অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা বা গ্রাহক নন এবং আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনের কারণে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

শ্রীনগরে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগকে আটক করেছে পুলিশ। সম্প্রতি ঢাকার মিরপুর-১-এর পাইকপাড়া এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও শ্রীনগর থানার পুলিশের যৌথ দল তাকে গ্রেফতার করে।’

শরিফুজ্জামান সোহাগ শ্রীনগর শাখায় অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকের জমা স্লিপ ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা তাদের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন শাখা ব্যবস্থাপক মো. সরফুদ্দিন। পরে পুলিশ অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠায়।

ব্যাংক ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, তিন দিনে ২৫৫ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে প্রথম দিন ১৮৪ জন, দ্বিতীয় দিন ৪৬ জন এবং তৃতীয় দিন ২৫ জন অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পাওনা দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাদের ধারণা, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ জেলার শাখাগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা একজনকে অভিযুক্ত করে জিডি করেছি। একই সঙ্গে আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের আরও কেউ জড়িত কি না এবং অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক ইসমাঈল হোসেন জানান, ‘ব্যাংক থেকে একটি জিডি দুদকে পাঠানো হয়েছে। কমিশন পরবর্তী অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।’

অভিযোগ নিয়ে যা বলছে অগ্রণী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ঘটছে, এটা সত্যি। এগুলো বড়ই দুঃখজনক। তবে এসব ঘটনায় ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

কেন অভিযুক্তদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে না?—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগে ব্যাংকের টাকা উদ্ধার করতে হবে। অনিয়ম বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের চাকরিচ্যুত করে দিলে টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই টাকা উদ্ধারের স্বার্থে তাদের রাখা হচ্ছে। তবে তাদের আর্থিক সুবিধা, পদোন্নতি ও ইনক্রিমেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে দেওয়া হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘কোনো একটি ব্যাংকে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাংলাদেশ ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। কেন এসব ঘটনা ঘটেছে এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?- এসব জানতে চাওয়া হয়েছে।’

তি‌নি আরও বলেন, ‘ব্যাংকের জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

অভিযোগ সত্য হলে দোষী ব্যক্তি চিহ্নিত হওয়ার পরও তাকে স্বপদে বহাল রাখা বা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র। তার মতে, ‘চূড়ান্ত শাস্তিমূলক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও সময়ের প্রয়োজন হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত।’

অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বপদে বহাল থেকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলে গ্রাহকদের মধ্যে আরও অনাস্থা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন আরিফ হোসেন খান।