রাজবাড়ী: আমাদের চারপাশে মৌলবাদের আস্ফালন দেখতে পাচ্ছি। এই আস্ফালন মোকাবিলা করতে হলে সাংস্কৃতিক মাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাজবাড়ী একাডেমির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী দশম বাংলা উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতির সব ক্ষেত্র ও অঙ্গনকে সক্রিয় করতে হবে। সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, রচনা প্রতিযোগিতা, যাত্রা ও থিয়েটারসহ সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। সংস্কৃতির ব্যাপকতা অনেক বিশাল। জীবনের সর্বক্ষেত্রেই সংস্কৃতি রয়েছে। আমাদের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে সংস্কৃতি মানেই গান-বাজনা। কিন্তু সংস্কৃতি শুধু গান-বাজনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের জীবনযাপন, আচার-আচরণ, কথা বলার অভ্যাস ও রীতিনীতি সবকিছুই সংস্কৃতির অংশ।
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের সঙ্গে বারবার বসেছেন এবং দেশের সংস্কৃতির নিজস্বতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা মনে করি, সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্য ও শিল্পের পরিচায়ক। তাই আমাদের সংস্কৃতির নিজস্বতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কাউকে যদি এক পাতা বাংলা শুদ্ধ করে লিখতে বলা হয়, আমার মনে হয় অনেকেই তা পারবেন না। বাংলা ভাষার চর্চা ও শুদ্ধ ব্যবহারে আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে। রশ্মিকার, দীর্ঘিকার, র-ফলা ও য-ফলার মতো বিভিন্ন জটিলতার কারণে বাংলা ভাষা সহজভাবে অনুশীলন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে বাংলা ভাষাকে আধুনিকায়নের বিষয়ে ভাষাবিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই আয়োজন বাংলা ভাষার বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরছে। আমাদের সবাইকে মিলে রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করে এগিয়ে নিতে হবে।
রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান, এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিম শফি। স্বাগত বক্তব্য দেন রাজবাড়ী একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকবাল হোসেন।
জানাগেছে, দুই দিনব্যাপী এই বাংলা উৎসবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছে। অনুষ্ঠান শুরুতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে বর্ণ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে অতিথিদের উত্তরীয় এবং সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।