Friday 23 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

খানাখন্দে ভরা মানিকনগর-সিরাজপুর সড়ক, ভোগান্তিতে মানুষ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১০

মানিকগঞ্জ: মানিকনগর থেকে পাড়াগ্রাম বাজার পর্যন্ত সড়কের কোথাও পিচঢালাই নেই, কোথাও উঠে গেছে ইট-বালু ও সুরকি। তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে জমে হাঁটুপানি। তখন সড়ক আর গর্ত আলাদা করে বোঝার উপায় থাকে না। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমন দুর্ভোগের মধ্যেই প্রতিদিন চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষ।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর থেকে সিরাজপুর হাট পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ অংশের এখন এমন অবস্থা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি কার্যকরভাবে সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গত কয়েক দিন সড়কটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, মানিকনগর থেকে পাড়াগ্রাম পর্যন্ত বেশির ভাগ জায়গায় পিচ উঠে গেছে। কোথাও গর্ত এতটাই গভীর যে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। বৃষ্টির পর গর্তে পানি জমে গেলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাইর-মানিকনগর-সিরাজপুর হাট সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মানিকনগর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়ক পাকা করার কাজ হালনাগাদ করা হয়। তবে মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত অংশের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ওই অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে।

স্থানীয় সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি হলে সড়কটি খালে পরিণত হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচলের সময় জামাকাপড় ভিজে যায়। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্ণা তাবাচ্ছুম বলেন, সড়কের খানাখন্দের কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো যায় না। বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। স্কুল ড্রেস নোংরা হয়ে যায়। আর গরমের দিনে প্রচুর ধূলাবালি।

অটোরিকশাচালক আমির হোসেন বলেন, ভাঙা সড়কে গাড়ি চালিয়ে যে আয় হয়, তার বড় অংশই গাড়ি মেরামতে চলে যায়। গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। আর যাত্রীদের অবস্থাও আমার গাড়ির মত হয়ে পড়ে। মানুষের কপালে দুঃখ থাকলে এমন রাস্তা তাদের কপালে থাকে আরকি।

চকপালপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শহিদুর রহমান বলেন, সড়ক দিয়ে অটোরিকশায় চললে মনে হয় পাহাড়ি পথে উঠানামা করছি। গাড়ির ঝাঁকুনিতে কোমরে ব্যথা হয়ে যায়। বয়স্ক মানুষের কষ্ট আরও বেশি। আর নারী ও শিশুরা আরো বেশি বিপদে পড়েন।

স্থানীয় মশিউর রহমান দুলাল বলেন, সড়কের দুই পাশে ১০ থেকে ১৫টি স্কুল-মাদরাসা রয়েছে। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পথ ব্যবহার করে। অসুস্থ রোগীদের ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নেওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভাঙাচোরা পথের কারণে রোগী পরিবহনে বাড়তি সময় ও ভোগান্তি হচ্ছে। সড়কটি মানিকগঞ্জসহ আশপাশের পাঁচ-ছয়টি উপজেলার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে। সড়কের দুরবস্থায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে।

চকপালপাড়া এসইএসডিপি মডেল স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি প্রতিদিন বায়রা ইউনিয়ন থেকে মোটরসাইকেলে বিদ্যালয়ে যান। মানিকনগর থেকে পাড়াগ্রাম বাজার পর্যন্ত অংশের কারণে প্রতিদিন তার ২০ থেকে ২৫ মিনিট বেশি সময় লাগে। মোটরসাইকেলও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।

কৃষক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভাঙা সড়কের কারণে মাঠের ধানসহ কৃষিপণ্য বাড়িতে আনা ও হাটে নেওয়ার খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় চালকেরা পণ্য নিতে যেতে চান না।

সিংগাইর উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম সামদানী বলেন, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ৩ মন্ত্রী
২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৪

আরো

সম্পর্কিত খবর