Saturday 24 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ, কয়েক মাসেই ধসের কবলে মিরপুর-সাহাপুর সড়ক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৩

চাঁদপুর: নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই ভাঙনের কবলে পড়েছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মিরপুর-সাহাপুর সড়ক। সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি নিচের মাটি সরে পাশের মাছের ঘেরে পড়ে যাচ্ছে। এতে সড়কের ভিত্তি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কের বড় একটি অংশ ধসে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ভাঙা অংশ দিয়ে নিচের মাটি সরে পাশের মাছের ঘেরে পড়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের কিনারা ভেঙে গেছে। ফলে সড়কের ভিত্তি থেকে মাটি সরে গিয়ে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণের শুরু থেকেই সড়কটির কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বর্ষা মৌসুমে পানির ওপর দিয়েই সড়ক নির্মাণের কাজ চালানোর অভিযোগও ওঠে। এ ছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছিলেন এলাকাবাসী। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

সড়কটির দুই পাশেই রয়েছে মাছের ঘের। ফলে মাটি সরে যাওয়া ঠেকাতে শক্তিশালী গাইডওয়াল বা প্রতিরোধক দেয়াল নির্মাণের দাবি ছিল স্থানীয়দের। তবে তাদের অভিযোগ, সেই দাবি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভাঙন দেখা দেওয়ার পরও কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ বলেন, এই এলাকার মানুষ বরাবরই অবহেলিত। রাস্তা নির্মাণের সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। পরে কিছুদিন যেতে না যেতেই রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছে। টেকসইভাবে কাজ না হলে জনগণের দুর্ভোগ থেকেই যাবে।

স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দা সড়ক নির্মাণের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সড়কটি দ্রুত পরিদর্শন করে ভাঙনের কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক দেয়াল নির্মাণ ও টেকসইভাবে সংস্কার করতে হবে।

১২৫৮ মিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। কোভিড প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণকাজ করে ‘মতলব ট্রেডিং অ্যান্ড আর.কে এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমি কাজ করার সময়ই পৌর কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, এখানে গাইডওয়াল ধরা নেই। গাইডওয়াল না করলে রাস্তা টিকবে না। পৌর কর্তৃপক্ষ গাইডওয়াল না করায় রাস্তা ভেঙে পড়েছে। এখন যদি প্লাসেটিং করে দেওয়া হয়, তাহলে আমি মেরামত করে দেব।’

ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘মৎস্য প্রজেক্টগুলোর কারণে রাস্তা দ্রুত ধসে পড়েছে। আমরা পৌরসভা থেকে আপাতত বাঁশ দিয়ে প্লাসেটিং করে দেব। তবে প্রটেক্ট ওয়াল নির্মাণ ছাড়া এই অংশে রাস্তা টেকানো মুশকিল।’

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘কাজটির ইস্টিমেট করার সময় যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা ত্রুটি করেছেন। তাছাড়া মৎস্য প্রজেক্টগুলো এই অংশে প্রটেক্ট দেয়াল নির্মাণ করেনি। আমরা এখন রাস্তা টেকানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ওই অংশটি আমি পরিদর্শন করেছি।’

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর