রংপুর: রংপুরের বদরগঞ্জে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া মাদককারবারি ও বিএনপি নেতা মমতাজুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো।
রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস.) সুশান্ত চন্দ্র রায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক মমতাজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকা থেকে মাদকসহ আটকের পর ডিবি পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান মমতাজুর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলা ডিবি পুলিশের সাদা পোশাকধারী একটি দল শিবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে হাতকড়া পরায়। পরে তাকে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় কৌশলে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান তিনি। গভীর রাতে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাতকড়াটি উদ্ধার করা হলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মমতাজুর রহমান গোপালপুর ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদককারবার পরিচালনা করে আসছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। তিনি একসময় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরে গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
রংপুর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. নবিউল হাসান জানান, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ হাসানও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুর রহমান বকুল বলেন, ‘মমতাজুর একসময় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তবে মাদককারবারি ও মাদকসেবীদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। কেউ এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আজিজুল হক বলেন, ‘কেউ বিএনপির কথা বলে মাদক, জুয়া কিংবা অন্য কোনো অবৈধ কাজে জড়িত থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া দরকার।’
পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়রা অবিলম্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।