Tuesday 27 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ / নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকে থাকার লড়াই আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:১৫ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩১

নির্বাচনী প্রচারে স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কথা বলছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গেটি ইমেজেস

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গাজায় জাতিনিধন, ধ্বংসযজ্ঞ, লাখো ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ। তবে ইসরায়েলের নেতৃত্ব বদলালেই ফিলিস্তিনিদের জীবনে স্বস্তি ফিরবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এরই মধ্যে দেশটির প্রধান দুই নির্বাচনি জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, ১৯ বছর ক্ষমতায় থাকা ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী এই নেতা রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। দেশটিতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ক্রমশ শিকড় গেড়েছে। ইসরায়েলের খণ্ডিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুই সম্ভবত সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনমত জরিপগুলো বলছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তাদের ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। আইজেনকোট একজন সাবেক সামরিক প্রধান এবং নিরাপত্তা বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী-উভয় শিবিরেরই সমর্থন রয়েছে তার প্রতি।

নেতানিয়াহু তার নির্বাচনি প্রচারে যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার জোটের ওপর জোর দিচ্ছেন। ট্রাম্প তাকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) নেতানিয়াহু বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের হুমকিকে ‘চিরতরে’ নির্মূল করতে আবারও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত-তবে তা কেবল তখনই সম্ভব, যদি নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকেন।

অন্যদিকে, আইজেনকোট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন যে, তিনি ‘ভীতি ছড়ানো, মিথ্যাচার ও হুমকির ওপর ভিত্তি করে’ প্রচার চালাচ্ছেন। আইজেনকোট আরও বলেন, তিনি নিশ্চিত যে ট্রাম্প ‘জনগণের দ্বারা নির্বাচিত যেকোনো নেতার সঙ্গেই পূর্ণ সহযোগিতার ভিত্তিতে’ কাজ করবেন।

সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে আবারও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোত্রিখের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে এই দুজন পশ্চিমা কিছু দেশের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, জনমত জরিপে বেন-গভিরের ‘জুইশ পাওয়ার’ দল সমর্থন লাভ করেছে।

নেতানিয়াহু বা আইজেনকোট-কারও জন্যই ক্ষমতায় যাওয়ার পথটি সুগম নয়। ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে যদি কেউই জোট সরকার গঠন করতে না পারেন, তবে আগামী বছর পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট। ছবি: এপি।

এই নির্বাচন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর প্রথম জাতীয় ভোট। ভোটগ্রহণ চলবে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং কে এগিয়ে আছেন?

ইসরায়েলিরা কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পরিবর্তে দলের তালিকার পক্ষে ভোট দেয়। জাতীয়তা, ধর্ম, জাতিসত্তা ও আদর্শের ভিত্তিতে বিভক্ত সমাজে এর ফলে অনেকগুলো দলের উপস্থিতি দেখা যায়।

প্রতিটি নির্বাচনি চক্রে বহু রাজনৈতিক দল বা তালিকা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেয়। তবে কেবল তারাই আসন লাভ করে যারা ইসরায়েলের ১২০ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ প্রবেশ করতে পারে। নেসেটে প্রবেশের জন্য মোট ভোটের অন্তত ৩.২৫ শতাংশ অর্জন করতে হয়।

সবচেয়ে বড় দুটি দলের একটি হলো নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী দল ‘লিকুদ’ এবং অন্যটি হলো ‘ইয়াশার’-গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন একটি নতুন মধ্যপন্থী দল। আইজেনকোট ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ এবং তিনি নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, ২৩টি আসন নিয়ে আইজেনকোট সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। আর লিকুদ দল পেয়েছে ২১টি আসন। যদিও অন্যান্য জরিপ সংস্থার ফলাফলে ভিন্নতা রয়েছে। নেতানিয়াহু-পন্থী চ্যানেল ১৪-এর জরিপ অনুযায়ী, লিকুদ দল ৩০টি আসন পেতে পারে এবং আইজেনকোট পেতে পারেন প্রায় ২০টি আসন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে বেশি উপযুক্ত-এমন সরাসরি তুলনামূলক জরিপগুলোতে আইজেনকোট ধারাবাহিকভাবে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

তবে নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হওয়া মানেই জয় নিশ্চিত নয়। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন, আর এখন পর্যন্ত কোনো দলই এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তাই নির্বাচনের রাতে সাধারণত খুব কম বিষয়ই চূড়ান্ত হয়। আসল লড়াই শুরু হয় নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে-জোট গঠনের জটিল হিসাব-নিকাশ নিয়ে। যা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর