Wednesday 28 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জিয়াউলের অভিযানের ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহে ব্যর্থতার কথা জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:২৩ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৫৪

সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান – সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযানের সমর্থনে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। র‍্যাব-৮-এর আর্কাইভ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জেরায় জানান তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে জেরার সময় এ তথ্য উঠে আসে। জিয়াউল আহসানের আইনজীবী সাহিদুর রহমান পঞ্চম দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় জিয়াউল আহসান একমাত্র আসামি। নিরাপত্তার কারণে কারাগারে রেখেই তাঁর বিচার কার্যক্রম ভার্চ্যুয়ালি চলছে। মামলায় ১৫তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

জেরায় আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলায় উল্লেখ করা কয়েকটি অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী তদন্তের প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন তিনি। তবে এসব প্রতিবেদনে জিয়াউল আহসানের নাম ছিল না। তাঁর ভাষ্য, প্রতিবেদনগুলো ছিল ‘ফরমায়েশি’।

অভিযানের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হতো কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো, সেগুলোর প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। অন্যদিকে, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো না, সেগুলোর প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো না।

তদন্তের প্রয়োজনে র‍্যাব-৮ কার্যালয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযানের সমর্থনে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণপত্র এবং জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। তবে এসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অভিযানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের নাম এবং অভিযানে যুক্ত র‍্যাব সদস্যদের পরিচয় সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে যাওয়ার কথা জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র দেননি বলে জেরায় স্বীকার করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এক পর্যায়ে আইনজীবী সাহিদুর রহমান দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা কখনো র‍্যাব-৮ বা র‍্যাব সদর দফতরে যাননি। জবাবে রফিকুল ইসলাম এ বক্তব্যকে সত্য নয় বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। জবানবন্দিতে তিনি তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে কোথায় গেছেন, কী কী তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং সেসবের সঙ্গে মামলার অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরেন। মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে একই সময়কালে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

মামলাটিতে অভিযানের ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য এবং আইনজীবীর জেরার বিষয়গুলো বিচারিক কার্যক্রমে উঠে এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর