ঢাকা: আইনি ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে পুরোপুরি বাদ পড়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম অধ্যায়। তবে প্রায় চার হাজার কোটি টাকায় কেনা দেড় লাখের বেশি পরিত্যক্ত ইভিএমের স্থায়ী ও নিরাপদ ডিসপোজাল (নিষ্পত্তি) নিয়ে বর্তমানে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে কমিশন। বর্তমানে গুদাম ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া, এই যন্ত্রগুলো ঘিরে এখন গুরুতর পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
কোথায়, কী অবস্থায় আছে ইভিএম
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে ছড়িয়ে আছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম। এর মধ্যে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে (বিএমটিএফ) সংরক্ষিত রয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার ইভিএম, দেশের বিভিন্ন জেলা ও স্থানীয় গুদামগুলোতে রয়েছে প্রায় ৬২ হাজার যন্ত্র। এ ছাড়া, নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত আছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ইভিএম।
জানা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইভিএমের বড় একটি অংশই অকেজো হয়ে গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন গুদামে এগুলো রেখে দেওয়ায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভাড়া বাবদ খরচ হচ্ছে, যা ইসির জন্য একপ্রকার ‘বোঝা’ বা ‘বার্ডেন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ই-বর্জ্য সংকট
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবসের আলোচনায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বিশাল পরিমাণের পরিত্যক্ত এই ইভিএম বর্তমানে দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইভিএমে ব্যবহৃত রিচার্জেবল ব্যাটারি ও বিভিন্ন সার্কিটে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ও ভারী ধাতু (যেমন- সীসা, পারদ ও ক্যাডমিয়াম) থাকে। এগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা বা অযত্নে ফেলে রাখলে তা লিক হতে পারে, যা মাটি ও পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিগত ঘাটতি ও আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না থাকায় এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হয়েছে।
যেভাবে করা যাবে ইভিএমের ডিসপোজাল
ইভিএম ডিসপোজাল করার জন্য এরই মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ে মামলাসংক্রান্ত আলামত হিসেবে যেসব যন্ত্র সংরক্ষণ করা জরুরি, সেগুলোর তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কমিটি। তবে বাকি যন্ত্রগুলো কীভাবে বৈজ্ঞানিক ও লাভজনক উপায়ে ডিসপোজাল করা যায়, সে বিষয়ে মতামত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের প্রযুক্তি ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ হলো-
আইনি আলামত সংরক্ষণ: বিভিন্ন নির্বাচনী মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইভিএম সুরক্ষিত রেখে বাকিগুলোর ক্যাটালগ বা ইনভেনটরি তৈরি করা।
তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ইভিএমগুলোতে থাকা স্পর্শকাতর মেমোরি চিপ বা ডাটা স্টোরেজ ডিভাইসগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট (ডিগাউসিং বা ফিজিক্যাল ডেস্ট্রাকশন) করে ফেলা, যাতে কোনো গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস না হয়।
খুচরা যন্ত্রাংশ পুনর্ব্যবহার: মেশিনগুলো পুরোপুরি পুড়িয়ে বা ধ্বংস না করে, এর ভেতরের সচল প্লাস্টিক বডি, মাদারবোর্ড, ডিসপ্লে ও অন্যান্য ধাতব উপাদানগুলো আলাদা করে রিসাইক্লিং বা গবেষণার কাজে ব্যবহার করা।
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ই-বর্জ্য রূপান্তর: মেমোরি চিপ ধ্বংস করার পর অবশিষ্ট মেটাল ও ইলেকট্রনিক অংশগুলো যথাযথ নীতিমালার আওতায় আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য প্রসেসিং কোম্পানির কাছে উন্মুক্ত দরপত্রে বা রফতানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন গুদাম ভাড়ার বিপুল অপচয় বন্ধ হবে, অন্যদিকে সরকার কিছু বৈদেশিক মুদ্রা বা রাজস্ব আয়ও করতে পারবে।
কমিশনের পদক্ষেপ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ অন্যান্য আইনি সংস্থার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আলামত রেখে বাকি ইভিএমগুলো যত দ্রুত সম্ভব ডিসপোজাল করতে চায় নির্বাচন কমিশন। ইভিএমের ভবিষ্যত নিয়ে ১২ অক্টোবর সিইসির সভাপতিত্বে কমিশন সভা শেষে ইসির সিদ্ধান্ত তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, চূড়ান্ত নিষ্পত্তিসহ আগের কমিটির সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন চায়, যত দ্রুত সম্ভব ইভিএমগুলো নিষ্পত্তি করা হোক। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার জন্য যেসব আলামত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো রেখে দেওয়া হবে। এর পর অবশিষ্ট ইভিএমগুলো দ্রুত ডিসপোজালের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘দ্রুত ইভিএম ডিসপোজাল করা হবে। এগুলো এখন আমাদের কাছে বার্ডেন। এর কোনো ব্যবহারও নেই। বরং, লাখো ইভিএম মেয়াদোত্তীর্ণও হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, এখন একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কোন জায়গায় কতগুলো, কীভাবে ইভিএম রয়েছে তা ইনভেনটরি (ক্যাটালগ) করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ও দুদকের সঙ্গে আমাদের আলোচনার দরকার পড়তে পারে- এগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি করা যায়। এটা দিয়ে কোনো কাজ হবে না। অধিকাংশ আছে মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে, কিছু আছে বাইরে- সবাই ভাড়া চাচ্ছে। এত ভাড়া দিতে গেলে তো বিরাট মুশকিল। তাই আমরা চাচ্ছি- অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল এটাকে যদি ডিসপোজাল করে দিতে পারি। তাহলে এ লায়াবিলিটি থেকে আপাতত বেঁচে যাই।’
কীভাবে ডিসপোজাল (নিষ্পত্তি) করা হবে?- এ বিষয়ে এ নির্বাচন কমিশনার জানান, নিষ্পত্তি মানে সবগুলোই ধ্বংস করা নয়। সরকার যদি মনে করে কোনো অংশ ব্যবহার করতে চায়, তাহলে করবে। এজন্য হয়তো টেকনিক্যাল কমিটি করবে। অন্য কোনো কাজে যদি লাগানো যায় এসব যন্ত্র- তাহলে করবে; বিক্রি করা গেলে করবে। যেগুলো বেশি খারাপ সেগুলো যদি ধ্বংস করা ছাড়া উপায় নেই-তাও করা হতে পারে। আমাদের কাছে ইভিএমের সর্ব শেষ তথ্য নিয়ে রিপোর্ট এলে বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে বসব। এর পর সিদ্ধান্ত নেব- কী করা যায়।’
আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, যদি দেখা যায় কিছু ধ্বংস করা দরকার, তা হবে। দুদকের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, মামলার বিষয় রয়েছে। সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে- ইসির কমিটিতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, ‘ইভিএম কোনটা কোন অবস্থায় রয়েছে তা জেনে নিষ্পত্তি করা হবে। আমরা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাই। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সারাবাংলাকে বলেন, ‘ইভিএম ইলেকট্রনিক ডিভাইস। এতে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কিং সিস্টেম জড়িত। সরকার ও ইসি যদি পলিসি প্ল্যান করে, ভবিষ্যতে এগুলো আর ব্যবহার করবে না- তাহলে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে ডিসপোজালের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
তিনি জানান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এসব মেশিন অন্য কোথাও ব্যবহার করা যায় কিনা, কোথাও এর উপযোগিতা আছে কিনা, বিষয়টি এক্সপ্লোর করতে হবে। এতে যে ব্যয় হয়েছিল তার কিছু যদি এসব বিক্রি করে আয় করা যায় তাও দেখা যেতে পারে। কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সার্বিক প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো পযালোচনা করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এর জন্য একটা কারিগরি কমিটি করা যেতে পারে। আফটার জিসপোজালের ভবিষ্যত কী হবে; বিশ্বের অন্য কোথাও এ ধরনের যন্ত্রাংশ কীভাবে এটা করে এবং যাচাই-বাছাই করে সমন্বিতভাবে নিষ্পত্তি করা গেলেই ভালো হবে।’
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আইনি পরিবর্তনের কারণে ইভিএম রাখার বা পুনরায় ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন সংস্কার কমিশন থেকে আমাদের সুপারিশও ছিল ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করার। তাই বিভিন্ন নির্বাচনী মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে কিছু ইভিএম আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হতে পারে। কারণ, কোর্ট চাইলে যেন তা প্রদর্শন করা যায়, সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করে বাকি ইভিএমগুলো ডিসপোজাল করা যৌক্তিক হবে।’
ইভিএম অন্য কোনো দেশের কাছে বিক্রি করা সম্ভব কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইভিএম একটি স্পর্শকাতর ও আস্থাভিত্তিক মেশিন। যেসব দেশ ইভিএম ব্যবহার করে, তারা নিজেদের মতো কাস্টমাইজ করে এটি তৈরি করে। ফলে সরাসরি ইভিএম অন্য দেশে রফতানি বা বিক্রির সুযোগ নেই। তবে এই মেশিনগুলো সরাসরি ফেলে না দিয়ে ভেঙে ভেতরের কার্যকর পার্টস, চিপস ও মেটেরিয়ালগুলো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা যেতে পারে; যা কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে লাগতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বর্তমানে সারাদেশে গোডাউনগুলোতে সংরক্ষিত প্রায় দেড় লাখ ইভিএমের কারণে প্রতি মাসে সরকারকে লাখ লাখ টাকা গুদাম ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা এক ধরনের অপচয়। তাই দ্রুত ও স্বচ্ছ উপায়ে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় ই-বর্জ্যের বিষয়টি খেয়াল রেখে এই ইভিএমগুলোর ডিসপোজাল সম্পন্ন করা জরুরি।’
চার হাজার কোটি টাকার ইভিএম অধ্যায়
২০১০ সালে বাংলাদেশে প্রথম ইভিএম ব্যবহার শুরু হয়। নবম সংসদ নির্বাচনের পর বুয়েটের তৈরি করা ইভিএম দিয়ে ২০১০ সালে সিটি নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডে শুরু হয় ইভিএমের যাত্রা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি ইভিএম দিয়ে একটি সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ডে ভোট নেয় তৎকালীন নির্বাচন কমিশন। তবে সে সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি। পরে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন আগের ইভিএমে ত্রুটি পাওয়ার কথা জানায়। এর পর কয়েক বছর এ প্রযুক্তি নিয়ে বড় পরিসরে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সময়ে ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ নতুন করে গতি পায়। পরে দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয়ে যন্ত্র কেনা হলেও মাত্র ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এ যন্ত্র ব্যবহার করে কমিশন। তবে ইভিএমের আয়ুষ্কাল ১০ বছর ধরা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাঁচ বছরের মধ্যেই অনেক যন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে।
কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অন্তত ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান নির্বাচন কমিশনও আর কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করেনি। বরং, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন থেকে ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্বাচনে এসব যন্ত্র ব্যবহারের ভবিষ্যৎ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।