কুড়িগ্রাম: একসময় সংসারের আয়-রোজগারে পুরুষদের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন আর পিছিয়ে নেই কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের নারীরা। বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ, বস্তায় আদা উৎপাদন ও ভেড়া পালন করে সংসারে বাড়তি আয় করছেন তারা। নিজেদের শ্রম ও উদ্যোগে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন চরাঞ্চলের অনেক নারী।
চরাঞ্চলের বসতবাড়ির আঙিনা, পতিত জমি কিংবা বাড়ির আশপাশের ছোট জায়গাকে কাজে লাগিয়ে নানা ধরনের শাকসবজি চাষ করছেন নারীরা। পাশাপাশি স্বল্প জায়গায় বস্তায় আদা চাষ করছেন তারা। ভেড়া পালন করেও আয় করছেন তারা। এতে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বিক্রির অর্থ দিয়ে সংসারের খরচ মেটাতে ভূমিকা রাখছেন নারীরা।
নারীদের এই আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ। সংস্থাটির উদ্যোগে চরাঞ্চলের নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ ও ভেড়া সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব সহায়তা কাজে লাগিয়ে অনেক নারী নিজেরাই গড়ে তুলছেন আয়ের উৎস।
স্থানীয় নারীরা বলছেন, আগে সংসারের খরচের জন্য পুরুষদের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন নিজেরাই আয় করতে পারছেন। এতে সংসারে সচ্ছলতা আসার পাশাপাশি পরিবারে তাদের গুরুত্ব ও আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে।
চরাঞ্চলের নারীদের এমন উদ্যোগ শুধু তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের আরও অনেক নারী আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
ফ্রেন্ডশিপের এএসডি প্রকল্পের রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গের সহায়তায় কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী ও রৌমারী উপজেলার ২৮টি চরে ৮৪০ জন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ফ্রেন্ডশিপের সদস্যদের প্রশিক্ষণ,ভেড়াগুলোকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন, কৃমিনাশক দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষগুলো স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।