মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে,ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে পাঠানো ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করার চেষ্টা করেছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এ চেষ্টাকে খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে ট্রাম্প প্রশাসনের এ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠেয় এ ভোটে এক বড়সড় ধাক্কা খেল তারা।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, এমন সব মানুষ এসব ব্যালট ডাকযোগে পাঠিয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকই নন। তাদের কেউ কেউ অবৈধভাবে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন অভিযোগ তুলে মার্কিন বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তাদের যেন ডাকযোগে পাঠানো বিশ হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

নির্বাচন ভোট দিচ্ছেন আমেরিকান ভোটাররা। ছবি: শাটারস্টক।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির ঘটনা ব্যাপক। এসব অভিযোগের পক্ষে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাকে দায়ী করে আসছেন ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত অনেক অঙ্গরাজ্যে এ পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার অভিযোগ, অভিবাসীদের অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনে কারচুপি করতে পারেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিবন্ধিত ভোটার প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ। আগেও কয়েকটি নিম্ন আদালত নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষে আদেশ দিয়েছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও সন্দেহ তৈরি করতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বেশি ৫২টি আসন ক্যালিফোর্নিয়ায়।
বিভিন্ন গবেষণা ও অঙ্গরাজ্য সরকারের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, মার্কিন নাগরিক নন কিংবা নাগরিক হয়েছেন তবে ভোটার নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হাতেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, নাকি সেটা চলে যাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে, তা নির্ধারিত হবে আজকের ভোটে।