Monday 02 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পঞ্চগড়ে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ নভেম্বর ২০২৬ ২০:৪৯

প্রতীকী ছবি।

পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামি রিফাত বিন সাজ্জাদকে (২৪) দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক হুসেইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অপরাধের ভয়াবহতা ও নৃশংসতা বিবেচনা করে এই রায় ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা। এর আগে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ আটোয়ারী থানায় তার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন আটোয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরশাদুল হক।

বিজ্ঞাপন

আরও জানা গেছে, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলগেট এলাকার একটি স্কুলের পেছনে রেললাইন থেকে গত বছরের ১৪ জানুয়ারি সকালে এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর ক্ষতবিক্ষত ও ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে একই বছরের ৮ মার্চ সকালে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ মোড় এলাকায় ইজিবাইক চুরির অপরাধে রিফাত বিন সাজ্জাদকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে থানা পুলিশ। পরে রিফাতের কাছে থাকা মোবাইলফোনে কিছু অসামাজিক ভিডিও ও ছবি দেখতে পেয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে রেললাইনে উদ্ধার হওয়া তরুণীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ সময় ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে হত্যার পর রেললাইনে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় বলেও জানা যায়।

আটোয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরশাদুল হকের বাদী হয়ে দায়ের করা মামলার এজাহারে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ট্রেনযোগে পঞ্চগড়ে যাওয়ার পথে দিনাজপুর রেল স্টেশনে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় আসামি রিফাতের। পরে বিভিন্ন প্রলোভনে তাকে আটোয়ারীর কিসমতে নেমে রেলগেট এলাকার একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যান আসামি। সেখানে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন রিফাত। পরে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে একটি ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণীর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ টেনেহিঁচড়ে রেললাইনের ওপর রেখে পালিয়ে যান আসামি। পরবর্তী সময়ে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণীর মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রেফতার আসামি রিফাত বিন সাজ্জাদকে আটকের পর মোবাইলফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে সে। এদিকে আসামির পক্ষের কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। মামলা চলাকালীন তার আইনজীবী চেষ্টা করেছেন তাকে বাঁচাতে। কিন্তু সকল তথ্য-প্রমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এবং স্বাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেন।’