Wednesday 04 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এয়ার ফ্রায়ারে রান্নার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৭:২৫

রান্নাঘরের আধুনিক গ্যাজেটগুলোর মধ্যে এয়ার ফ্রাইয়ার এখন অনেকেরই প্রথম পছন্দ। ডিপ ফ্রাইয়ের তুলনায় এতে প্রায় ৮০ শতাংশ কম তেল লাগে বলে অনেকেই একে স্বাস্থ্যকর ভাবার ভুল করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, কম তেল মানেই সব খাবার নিরাপদ নয়, বরং ভুল নিয়মে এয়ার ফ্রাইয়ার ব্যবহার করলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ! কেননা রান্নার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খাবারের পুষ্টিগুণ, রান্নার তাপমাত্রা এবং খাওয়ার পরিমাণ।

ভুল ধারণা: প্রক্রিয়াজাত খাবার মানেই স্বাস্থ্যকর?

অনেকেই মনে করেন, বাজার থেকে কেনা ফ্রোজেন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, নাগেট বা সসেজ এয়ার ফ্রায়ারে ভাজলেই বুঝি তা স্বাস্থ্যকর হয়ে গেল! এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। কারণ…

বিজ্ঞাপন

বাজারজাত এই হিমায়িত খাবারগুলোতে আগে থেকেই প্রচুর সোডিয়াম, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকে।

এয়ার ফ্রায়ারে অল্প তেলে রান্না করলেও এই ক্ষতিকর উপাদানগুলো খাবারের মধ্যেই থেকে যায়।

নিয়মিত এ ধরনের খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি, মেটাবলিক ডিসঅর্ডার এমনকি ফ্যাটি লিভারের মতো মারাত্মক ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অ্যাক্রিলামাইডের ঝুঁকি

এয়ার ফ্রায়ারে অতিরিক্ত তাপে স্টার্চযুক্ত খাবার (যেমন: আলু) রান্না করলে অ্যাক্রিলামাইড (Acrylamide) নামের একটি ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে। বেশি তাপে আলুর প্রাকৃতিক শর্করা ও অ্যামিনো অ্যাসিডের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এটি উৎপন্ন হয়।

প্রাণীর ওপর চালিত গবেষণায় অ্যাক্রিলামাইডকে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও মানুষের শরীরে এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও নিয়মিত অতিরিক্ত বাদামি বা পোড়া খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

করণীয় কী?

এয়ার ফ্রায়ার কেবল রান্নার একটি আধুনিক যন্ত্র মাত্র, পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার কোনো জাদুকরি বাক্স নয়। সুস্থ থাকতে মেনে চলুন কিছু কৌশল…

সঠিক উপাদান নির্বাচন: প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে এতে তাজা সবজি, মাছ ও মুরগির মাংস রান্না করে খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।

হজমের সমস্যায় সতর্কতা: যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ডুবো তেলে ভাজা খাবারের চেয়ে এয়ার ফ্রায়েড খাবার ভালো বিকল্প। তবে অতিরিক্ত ঝাল, মসলাদার বা মাত্রাতিরিক্ত খাবার খেলে সেক্ষেত্রেও বদহজম হতে পারে।

তাপমাত্রা ও সময় নিয়ন্ত্রণ: রান্নার সময় খুব বেশি তাপমাত্রা ব্যবহার করবেন না। আলু বা অন্যান্য স্টার্চযুক্ত খাবার অতিরিক্ত কড়া করে বা বাদামি করে ভাজা থেকে বিরত থাকুন।

তবে মনে রাখতে হবে, এয়ার ফ্রাইয়ার কোনো জাদুকরি মেশিন নয় যা অস্বাস্থ্যকর খাবারকে স্বাস্থ্যকর বানিয়ে দেবে। তাই সুস্থ জীবনযাপনের মূল চাবিকাঠি হলো, তাজা উপকরণ বেছে নেওয়া, সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করা এবং সবসময় পরিমিত পরিমাণে খাবার খাওয়া।