কুমিল্লা: কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের মরদেহ। এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা- মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের পশ্চিম মনিপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে আদনানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুকুরটি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আদনান আলতাফ ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লার কাবিলায় অবস্থিত ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তার মায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সারে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে একটি ভারতীয় খাবারের হোটেলে যান আদনান। এরপর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
আদনান ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার পর কোথায় গিয়েছিলেন, কীভাবে পুকুরে পৌঁছালেন এবং তার মৃত্যু কীভাবে হলো এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তার নিখোঁজ হওয়ার সময়কার গতিবিধি ও মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আদনানের সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে তার পড়াশোনাও অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অন্য সহপাঠীরা চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিলেও আদনান এখনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
কলেজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আদনানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার মাকে সঙ্গে রেখে ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজতে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হয়। পাশাপাশি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
আদনানের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তাঁর সন্ধানে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে বুধবার সকালে পুকুরে মরদেহ থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করা হয়।
বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ওনি আদনান ইস্টার্ন মেডিকেলের অনিয়মিত ছাত্র ছিলো। সে কিছুটা মাদকাসক্তও ছিলো তাই সে অনিয়মিত হয়ে পরে। মাদকাসক্তির কারণে সে দুই বছর তার দেশে ছিলো। পরবর্তীতে এ বছর সে আবার শুরু করে। কলেজ কতৃপক্ষ তার মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে তার মাসহ কলেজে থাকার ব্যবস্থা করে। জুন মাসে সে তার মায়ের সঙ্গে এসে পরীক্ষা দিয়ে যায়। আজ পরীক্ষা ছিলো তাই গত ৩১ অক্টোবর সে তার মাকে সঙ্গে নিয়ে আসে। ২ নভেম্বর রাত সারে ১১ টার দিকে তার মাকে বলে সে ক্যাপাসের বাহিরে বিসমিল্লাহ রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। ওখানে গিয়ে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা শুরু করে। একপর্যায়ে ওখান থেকে বাহির হয়ে পাশের দোকানে মোবাইল রেখে কোথায় যেন চলে যায়। তার পর থেকে আমাদের পুলিশের কয়েকটা টিম, কলেজ কতৃপক্ষের টিম সহ তার বন্ধুরা নানা জায়গায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। কিন্তু কোথায় তার কোন হদিস পায়নি। পরে পুকুরে তার লাশ আজ পেলাম। এখন এটা হত্যা না আত্মহত্যা না ময়না তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম বলেন, সে আমাদের অনিয়মিত ছাত্র ছিলো। এবং মানুষিক ভাবে ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিলো। তাই তার মাকে সঙ্গে নিয়ে থাকতো। আমরা ফলোআপে রাখতাম। ঐদিন রাতেও সে তার মায়ের কাছে বলে খাওয়ার জন্য বাহিরে যায়। এরপর সবকিছু তো আপনারাই জানেন।
প্রবাসী আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কর্মকর্তা আলতাব মাসুদ রাজিব বলেন, আমরা ঘটনা শোনার পর কলেজ কতৃপক্ষকে সাথে নিয়ে খোজাখুজি শুরু করি। তার সাথে দামি কিছু ছিলোনা তাই তারতো কোন ক্ষতি হওয়ার কথা না। যেহেতু সকালে পানিতে পাওয়া গেছে তাই কিভাবে পানিতে গেলো, কিভাবে মারা গেলো তা ময়না তদন্তের পর বিস্তারিত পুলিশ জানাবে।