বাগেরহাট: অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশগত সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই যেকোনো প্রকল্পের প্রকৃত সার্থকতা নিশ্চিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন’ (সিআরসিসি)-এর মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রকল্পের সাফল্য কেবল সময়মতো নির্মাণকাজ শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং সময় ও ব্যয় হ্রাস, নতুন বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আমাদের চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ কতটা সুরক্ষিত থাকছে তার ওপরই এর আসল সার্থকতা নির্ভর করে। অর্জিত এই প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলেই নয়, সমগ্র দেশের অর্থনীতিকে উচ্চতর মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ বন্দরগুলোর আধুনিকায়নে পরিবেশবান্ধব সেবার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার্যকর ড্রেজিং, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তেল নিঃসরণ প্রতিরোধ এবং জাহাজের নিরাপদ বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিতকরণ এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মান বজায় রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে সবাইকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বন্দর সেবার আধুনিকায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সাথে মোকাবিলার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি।
একই অনুষ্ঠানে মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে মোংলা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের এই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে চীনা সহযোগিতার জন্য সফররত প্রতিনিধিদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি।
এ দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় যে চীনা বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এসেছেন, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
এ সময় বক্তব্য দেন, নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান,পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম , নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুক,ইনভেষ্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নৌপরিবহন সচিব মো. আতাউর রহমান খান প্রমুখ।