Thursday 05 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:০৬

চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ছবি: সংগৃহীত।

ঢাকা: চিত্রনায়ক সালমান শাহকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ১১ বারের মতো সময় পেলেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এ কারণে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক ওয়াজেদ আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আবদুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, তার স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানকে নিয়ে তাদের সিলেটের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সালমানের মা-বাবা গ্রিন রোডের বাসায় আলাদা থাকতেন। তারা ইস্কাটনের বাসায় পৌঁছালে সালমানের স্ত্রী সামিরা হক ও বাসার কর্মচারী আবুল তাদের জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমিয়ে আছেন শুনে তার মা-বাবা সামিরাকে জানিয়ে আসেন, সিলেটে যাওয়ার পথে আবার তার সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর তারা ও প্রযোজক সিদ্দিক বাসা থেকে চলে যান।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বাবাকে জানান, সালমানের কিছু একটা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ইস্কাটনের বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা সালমানকে শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন।

অভিযোগে বলা হয়, তখন দু-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামের এক নারী সেখানে বসে ছিলেন। এ সময় সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।

পরে সালমানের মা-বাবা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার অবনতি দেখে তারা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

মামলার অভিযোগে এসব ঘটনার উল্লেখ করে সালমান শাহর মৃত্যুর পেছনে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে পুলিশের প্রতিবেদন এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

 

 

 

সারাবাংলা/টিএম/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর