খুলনা: খুলনায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে তিনি খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস (সিজন-২) প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে এরই মধ্যে খুলনাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে নগরীর নতুন রেলস্টেশন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের দেয়ালে আঁকা হয়েছে বর্ণিল গ্রাফিতি। এসব চিত্রকর্মে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের দেয়ালে স্থান পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পী এস এম সুলতান, বাংলাদেশের ক্রিকেটার এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ঐতিহাসিক চিত্র। দেয়ালে শোভা পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান।
খুলনার জেলা প্রশাসক হুড়ে জান্নাত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর ও কর্মসূচি সফল করতে জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে খুলনাবাসীর মধ্যে উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’
জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আজ প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন। অতীতে খুলনা ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে যে পরিচিতি পেয়েছিল, সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনে সীমাবদ্ধ না রেখে দক্ষ খেলোয়াড়দের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।”
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে মোংলা বন্দরে পৌঁছান। সেখানে মোংলা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দু’টি নতুন কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণের ভিত্তিবোধ স্থাপনের পাশাপাশি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ ও ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন’-এর মধ্যকার এক যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এর পর সড়কপথে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করেন।