Saturday 07 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কৌশলগত জোট গঠনের পরামর্শ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৭ নভেম্বর ২০২৬ ১৫:৪২

ঢাকা: তুরস্কের আনাতোলিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলনকে (কপ-৩১) কেন্দ্র করে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের (বিবিএন) মধ্যে শক্তিশালী কৌশলগত জোট ও আঞ্চলিক ঐক্যের তাগিদ দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এই ভৌগোলিক জোট গঠনের ওপর জোর দেন।

সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ (সিজেএ-বি), উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনসহ কয়েকটি উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থা যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য অর্থায়ন আদায়ে আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রতি বিশেষ জোর দেন।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক পরিবেশগত সমতার কারণে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল মূলত একই ধরনের জলবায়ু বিপর্যয়ের শিকার। হিমালয় অঞ্চল ও অভিন্ন নদীর ওপর নির্ভরশীল এই তিন দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা এবং জাতীয় অর্থনীতি এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। তাই আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে নিজেদের বিপন্নতা ও দাবির পক্ষে জোরালো আওয়াজ তুলতে এই দেশগুলোর সরকার ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ ঘটলেই কোনো দেশের জলবায়ু ঝুঁকি কমে যায় না। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন আর প্রাকৃতিক অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন এক বিষয় নয়। ইতোমধ্যেই ভুটান এলডিসি মুক্ত হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও নেপাল সেই পথে রয়েছে। তবে উন্নত দেশ ও বহুপাক্ষিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো যেন এলডিসি উত্তরণকে অজুহাত বানিয়ে অভিযোজন সহায়তা প্রত্যাহার না করে, সেই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করা হয়। আন্তর্জাতিক ফোরামে দরকষাকষির মূল লক্ষ্য হতে হবে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে অভিযোজনকে সর্বাধিকার দেওয়া এবং এলডিসি উত্তরণ ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অনুদানভিত্তিক অনুদান চালু রাখা।

এছাড়াও সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনটি প্রধান নীতিগত দাবি উত্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো:

প্রথম: বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় অভিযোজনকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণতা, ন্যায্যতা ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা নির্ধারণের পাশাপাশি BBN অঞ্চলের আন্তঃসীমান্ত ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে।

দ্বিতীয়: এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে হবে। এ অর্থায়ন যাতে সহজে পাওয়া যায়, সেজন্য টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তৃতীয়: বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের মধ্যে অভিন্ন আঞ্চলিক অ্যাডভোকেসি ও আলোচনাভিত্তিক কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর মাধ্যমে অভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সিপিআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার-রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি শেখ নূর আতায়া রাব্বি ও সুমাইয়া বিনতে আনোয়ার। এতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এনএল/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর