Sunday 08 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সিলেটে হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
৮ নভেম্বর ২০২৬ ১৭:১৯

তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে সিলেট টেস্টে নতুন ইতিহাস লিখেছিল বাংলাদেশ। তাঁর অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসের কল্যাণে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরে প্রথম ইনিংসে লিডও পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হলো না। দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের দাপটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। চতুর্থ দিন শেষে তাদের লিড ৩১৫ রান। হাতে আরও সাত উইকেট। ফলে সিলেটে জয়ের আশা বাংলাদেশের প্রায় শেষ। এখন ম্যাচ বাঁচানোই হবে স্বাগতিকদের আসল লক্ষ্য।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার চতুর্থ দিন ৭৯ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রান যোগ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৩৪৫/৩। ১৪০ রানে অপরাজিত আছেন কাভেম হজ। অন্য প্রান্তে ২০ রান নিয়ে দিন শেষ করেছেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গু।

বিজ্ঞাপন

এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ তোলে ৩৮৬ রান। হৃদয়ের ২৪২ রানের ইনিংসে ভর করে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ ওভারে ৭ রান তোলে ক্যারিবীয়রা। চতুর্থ দিনের শুরুতে বাংলাদেশি বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারলে ম্যাচে সুবিধা করতে পারত।

শুরুর দিকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ইঙ্গিতও মিলেছিল। তবে ব্রেন্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভার ব্যাটিংয়ে দ্রুত ঘাটতি পুষিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৬ রান করা ডা সিলভাকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। পরে ৬১ রান করা কিংকে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানান মেহেদী হাসান মিরাজ। লাঞ্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৮/২। তখন তাদের লিড ৯৮ রান।

প্রথম সেশনে দুই উইকেট পাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ করে দেন কাভেম হজ ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। দুজনের ব্যাটে রান আসতে থাকে দ্রুতগতিতে। বাংলাদেশের পেস ও স্পিন—কোনো আক্রমণই ভাঙতে পারেনি তাঁদের প্রতিরোধ। দ্বিতীয় সেশনে ২৮ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান যোগ করেন তাঁরা দুজন।

এই সময় টেস্ট অভিষেকেই দুই ইনিংসে ফিফটির কীর্তি গড়েন উইকহ্যাম। প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নেন অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে হজ এগোতে থাকেন সেঞ্চুরির দিকে। চা-বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ২৫৯/২, লিড ২২৯ রান।

শেষ সেশনে সুইপ শটে বাউন্ডারি মেরে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হজ। তাঁর সঙ্গে উইকহ্যামের জুটি ক্রমেই বড় হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৬৮ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল। ৭৮ রান করে ফেরেন উইকহ্যাম। তবে ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড তিন শ ছাড়ানোর পথে।

উইকহ্যাম ফিরলেও হজকে থামানো যায়নি। জাঙ্গুকে নিয়ে দিনের বাকি সময় নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন তিনি। ১৮৯ বলের ইনিংসে ১৪০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন হজ। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ১১৮ রানে দুটি এবং মিরাজ ৫৮ রানে একটি উইকেট নিয়েছেন।

এখন শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণটা কঠিন। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ২১৫। ২০০৯ সালে গ্রেনাডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই এসেছিল সেই জয়। অথচ সিলেটে চতুর্থ দিন শেষে ক্যারিবীয়দের লিড ৩১৫ রান, হাতে আরও সাত উইকেট। তারা আর রান না তুললেও বাংলাদেশকে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আরও রান যোগ করলে চ্যালেঞ্জ বাড়বে আরও।

এদিকে, দুই ম্যাচের সিরিজে প্রথম টেস্ট জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর