ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২য় বৈঠকে ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধিত শিক্ষকদের চাকরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারের নির্বাহী আদেশের সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, এমপি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সর্বশেষ সিদ্ধান্তের আলোকেই এই তাৎপর্যপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ কমিটির সদস্য তাহসিনা রুশদীর, মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, মো. জাহান্দার আলী মিয়া, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মো. মুজিবুর রহমান এবং আতিকুর রহমান মোজাহিদ অংশ নেন। সভায় এনটিআরসিএ কর্তৃক পরিচালিত চলমান অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকসহ প্রশাসনিক পদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতির চিত্র উপস্থাপন করা হয় এবং চলমান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করার বিষয়ে কমিটিকে আশ্বস্ত করা হয়।
শিক্ষা খাতের নানা নীতিগত বিষয়ে কঠোর ও সময়োপযোগী নির্দেশাবলি এসেছে এই সংসদীয় বৈঠক থেকে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রবিধানমালায় সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্নাতক’ বহাল রাখার বিষয়ে জোর তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ ও অবসর সুবিধার অনিশ্চিত বা জমে থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হজ্জযাত্রী এবং মারাত্মক ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের আবেদনগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত অর্থ ছাড়ের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়।
পাঠ্যপুস্তক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার মানোন্নয়নেও বেশ কিছু কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত হয় যে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন পাঠ্যপুস্তক নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থাৎ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই যেন শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যায়। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে সংসদীয় কমিটির সরাসরি অনুসন্ধান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে এবং নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে সরকারের সার্বিক অবস্থান সম্পর্কে কমিটিকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এনটিআরসিএ, এনসিটিবি, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।