ঢাকা: পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাংবিধানিকভাবে এক নম্বর কমিটি হিসেবে স্বীকৃত উল্লেখ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) অডিট আপত্তি এবং কেনাকাটায় অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সরজমিনে তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্জিত লভ্যাংশের ৩০ শতাংশ অর্থ বিশেষজ্ঞদের পাওয়ার কথা থাকলেও অনিয়ম করে মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ অর্থ তুলে কোটি কোটি টাকা অন্যায়ভাবে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে তুলে নেওয়া এই বাড়তি অর্থ যেকোনো মূল্যে দ্রুত আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতি মাসে এর অগ্রগতির প্রতিবেদন কমিটিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
নিরীক্ষাকালীন কেনাকাটায় দরপত্রের স্পেসিফিকেশন সঠিকভাবে বজায় রাখা হয়েছিল কি না তা সরেজমিনে যাচাই করতে গঠিত কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, মো. ফজলে হুদা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নিয়ে এই সাব-কমিটি গঠিত হয়েছে। সরকারি হিসাব কমিটির প্রতিটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে অবহিত করার পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অডিট আপত্তিগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠকের শুরুতে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের রিপোর্ট নম্বর-৩৬/২০২৩ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অনিষ্পন্ন ১০টি অডিট আপত্তি নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই শেষে সিএজি কার্যালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।