Monday 28 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চট্টগ্রামে শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৩:১৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মায়ের ভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মানুষ। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পুষ্পস্তবন অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে চার বছর পর ফের চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত হলো। সংস্কার কাজের জন্য ২০২১ সাল থেকে এ শহিদ মিনারে সবধরনের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ ছিল। ২০২৩ সালে কাজ শেষ হলেও নির্মাণ নিয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের আপত্তির কারণে শহিদ মিনারের ফটক বন্ধ ছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এবার সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজে উদ্যোগ নিয়ে শহিদ মিনার ফের উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। একইসঙ্গে সংস্কৃতিকর্মীদের আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে নতুনভাবে সংস্কারেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর থেকেই শহিদ মিনারের আশপাশে সমাগম শুরু হয়। শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন সংগঠন, নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ফুল হাতে ভিড় করতে থাকেন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি’- কালজয়ী সেই গান ছিল সমবেত অনেকের কন্ঠে। স্লোগানে-স্লোগানেও মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ।

ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: সারাবাংলা

ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: সারাবাংলা

পুলিশের সশস্ত্র অভিবাদনের মধ্য দিয়ে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর শহিদ মিনার সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ দলে দলে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), জেলা পরিষদ, আনসার-ভিডিপি জেলা কমান্ড্যাট কার্যালয়,বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসসহ আরও বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। ছবি: সারাবাংলা

ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। ছবি: সারাবাংলা

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯৫২ সালে ভাষার জন্য সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে, একাত্তরে লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা, নব্বইয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আর চব্বিশের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই বাংলাদেশকে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব। আরেকটি বিষয়, বাংলা ভাষার চর্চাটা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। এটা দুঃখজনক। আমরা সিটি করপোরেশন থেকে চেষ্টা করছি, আমরা যাদের ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছি, তারা যেন সাইনবোর্ডে বাংলা ব্যবহার করে, সেটা নিশ্চিত করতে।’

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা সবাই মিলে যেন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারি, এটাই প্রত্যাশা। বাংলা ভাষার বিকৃতি হচ্ছে, এফএম রেডিওসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে একটি জগাখিচুড়ি অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এই বিকৃতি সবাই মিলে রোধ করতে হবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এক ছাত্রী বলেন, ‘অতীতে আমরা দেখেছি, শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো মানে শুধু একটি দলের আধিপত্য। তাদের দখলে থাকতো সবকিছু। এখানে আর কারও কোনো অধিকার থাকতো না। কিন্তু নকুন বাংলাদেশে এখন এই বৈষম্য নেই। আমরা সবাই মিলে সুন্দরভাবে শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।’

প্রতিবছরের মতো এবারও একুশের ভোরে প্রভাতফেরী হবে।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম