Tuesday 29 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

তীব্র শীতে জীবনযুদ্ধ / রেলস্টেশনের ফুটপাতে অসহায়দের নীরব আর্তনাদ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নীলফামারী: তীব্র শীতের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল। আর এই শীত যেন সবচেয়ে নির্মম রূপ নিয়েছে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন-এর ফুটপাতে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল মানুষের জীবনে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে রাতভর কাঁপতে কাঁপতে সময় কাটছে তাদের; ঘুম যেন বিলাসিতা, বেঁচে থাকাই হয়ে উঠেছে প্রতিদিনের সংগ্রাম।

স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের পাশে বসে কাঁপতে কাঁপতে কথা বলেন বৃদ্ধা অজিফা বেগম। কণ্ঠে অসহায়ত্বের ভার নিয়ে চাপা কণ্ঠে বলেন,  ‘বাবারে, এই শীতে বাঁচা খুব মুশকিল। গায়ে দেওয়ার মতো একটা ভালো কম্বলও নাই। সারারাত কাঁপতে কাঁপতেই কাটে, চোখে ঘুম আসে না। কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।’

বিজ্ঞাপন

অজিফা বেগম একা নন। তার মতো আরও ১৫ থেকে ২০ জন ছিন্নমূল মানুষ সৈয়দপুর রেলস্টেশনের ফুটপাত, বেঞ্চ ও খোলা জায়গায় দিন-রাত কাটাচ্ছেন। ছেঁড়া কম্বল কিংবা পুরোনো কাপড়ই তাদের একমাত্র সম্বল। শীত যত বাড়ছে, কষ্টও তত চরমে পৌঁছাচ্ছে।

ফুটপাতে থাকা বক্কর আলীর কণ্ঠে ক্ষোভ আর বেদনার মিশ্র সুর। তিনি বলেন, ‘আমাদের দিকে কেউ তাকায় না বাবা। যা পাই তাই দিয়েই দিন-রাত পার করি। গরমের সময় কষ্ট একটু কম থাকে, কিন্তু শীত এলে জীবন যায় যায় অবস্থা। গত কয়েক দিনের শীতে শরীর আর টিকছে না।’

চিলাহাটি থেকে ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াতকারী রাকিবুল ইসলাম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই সকালে এসব মানুষকে স্টেশনেই পড়ে থাকতে দেখেন। ‘এক বা দুইটা ছেঁড়া কম্বল গায়ে দিয়েই তারা শীত পার করছে। যদি সরকারি ভাবে একটু সহযোগিতা থাকত, তাহলে অন্তত শীতের রাতগুলো একটু স্বস্তিতে কাটাতে পারত।’

আরেক যাত্রী শরিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ঘরের ভেতর থেকেও শীতের তীব্রতা অনুভব করি। আর তারা খোলা আকাশের নিচে কীভাবে রাত কাটায়—ভাবলেই বুক ভারী হয়ে আসে।’

স্টেশনের বেঞ্চ, প্ল্যাটফর্ম আর আশপাশের খোলা জায়গাই এসব অসহায় মানুষের একমাত্র আশ্রয়। তীব্র শীতে স্থায়ী কোনো আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না থাকায় তাদের জীবন পড়েছে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। বৃদ্ধ, অসুস্থ ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর রেলওয়ে স্টেশনে ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়। তবে শীতবস্ত্র পাওয়ার পর বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে দুই দফা শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

৩ জেলায় নতুন ডিসি, একজনকে বদলি
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:২৯

আরো

সম্পর্কিত খবর