Friday 06 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাওনা ৪০ লাখ টাকা / হালখাতায় প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে মাইকিংয়ে ব্যবসায়ী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ মে ২০২৬ ২১:০৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পিরোজপুর: বছরের পর বছর পরিচিত মানুষদের বিশ্বাস করে বাকিতে পণ্য বিক্রি করেছিলেন পিরোজপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বাদশা। কিন্তু সেই বিশ্বাসই এখন তার জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় সংকট। প্রায় ৪০ লাখ টাকা বকেয়া আদায়ে হালখাতার আয়োজন করেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। তাই এবার বাধ্য হয়ে মাইকিং করে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধের আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।

শুক্রবার (১৫ মে) পিরোজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ শংকরপাশা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মাইক ভাড়া করে এলাকায় ঘুরে ঘুরে নিজের পাওনা টাকা ফেরতের অনুরোধ করছেন ওই ব্যবসায়ী।

জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে ‘মেসার্স আদিল আহনাফ এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘মেসার্স হাওলাদার ব্যাটারি’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন সাইফুল ইসলাম। তার দোকানে মুদি পণ্য, ইজিবাইকের ব্যাটারি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রি করা হতো। এলাকার পরিচিত অনেক ক্রেতাকে দীর্ঘদিন ধরে বাকিতে পণ্য সরবরাহ করেন তিনি। এভাবে সাত বছরে তার বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ থেকে ৪২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

পাওনা আদায়ের আশায় গত বুধবার (১৩ মে) দোকানে হালখাতার আয়োজন করেন তিনি। এজন্য পাওনাদারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমন্ত্রণপত্রও বিতরণ করেন। দোকানে আপ্যায়নের ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু অধিকাংশ পাওনাদার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। সব মিলিয়ে হালখাতা শেষে জমা পড়ে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

হতাশ হয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকেই এলাকায় মাইকিং শুরু করেন তিনি। মাইকে পাওনাদারদের দ্রুত বকেয়া টাকা পরিশোধের আহ্বান জানানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মানুষের প্রতি আস্থা রেখেই তিনি বাকিতে পণ্য দিয়েছেন। কিন্তু এখন অধিকাংশ পাওনাদার টাকা পরিশোধ না করায় ব্যবসাটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন বলেন, ‘একজন ছোট ব্যবসায়ীর জন্য ৪০ লাখ টাকা বিশাল অঙ্ক। সবাই যদি নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে বকেয়া টাকা পরিশোধ করেন, তাহলে হয়তো তিনি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।’

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, ‘বিশ্বাস করে মানুষের হাতে মাল তুলে দিয়েছিলাম। এখন টাকা না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সবাইকে অনুরোধ করছি, যার যত বাকি আছে দ্রুত পরিশোধ করুন। না হলে বাধ্য হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা চাইতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর