Saturday 07 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ফরিদপুরে জামায়াত কর্মী ও সাবেক কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে সরকারি চাল উদ্ধার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ মে ২০২৬ ১২:০৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফরিদপুর: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী ও সাবেক কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে প্রশাসন।

বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার আঁধারকোঠা গ্রামের বাসিন্দা, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার আব্দুস সামাদ খানের বাড়ির নিচতলা থেকে এসব চাল উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ বস্তা ও খুচরা ৩০ কেজিসহ মোট ৬৩০ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা চাল পৌরসভায় জব্দ তালিকাভুক্ত করে হস্তান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযান পরিচালনা করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ। এ সময় পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সরকারিভাবে পৌর এলাকার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সেই চাল সরকারি গুদাম বা পৌরসভার নির্ধারিত স্থানে না রেখে সাবেক কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত বাড়িতে সংরক্ষণ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামীর কর্মী পরিচয় এ ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন ও স্থানীয় ধর্মীয় মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা অভিযোগ।

এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘সরকারি সহায়তার চাল দরিদ্র ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের খাদেমদের মাঝে বিতরণের কথা অথচ সেই চাল একজন সাবেক কাউন্সিলরের বাড়িতে পাওয়া গেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুস সামাদ খান বলেন, ‘প্রতি বছরই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের চাল আমার বাড়িতে এনে রাখা হয়। এর সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা নেই। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে বোয়ালমারী ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাহেব আলী বলেন, ‘বিকেল ৩টার দিকে পৌরসভা থেকে চাল এনে সামাদ খানের বাড়িতে রাখা হয়। আগামী সোমবার (২৫ মে) ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে তা বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু পরে প্রশাসন এসে চাল নিয়ে যায়।

তবে স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি খাদ্যসামগ্রী ব্যক্তিগত বাসভবনে সংরক্ষণের বৈধতা নিয়ে। তাদের দাবি, সরকারি চাল সরকারি তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে রাখা উচিত ছিল।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম. রাকিবুল হাসানকে মুঠোফোনে কল দিলে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর