টাঙ্গাইল: জেলার ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সরকারি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় পিকআপসহ চালককে আটক করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে জেলার ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী টি-রোড এলাকায় পিকআপটি আটক করা হয়। পরে পুলিশ এসে ওষুধসহ গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়রা জানান, রাত ১১টার দিকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বস্তায় করে পিকআপে তোলা হয়। পরে সেগুলো গোবিন্দাসী যমুনা নদীর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। টি-রোড এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পিকআপটি থামিয়ে দেন। খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওষুধসহ গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরো জানান, হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করা এসব ওষুধের একটি অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে পিকআপচালক আজমত জানান, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভাড়া করেছে। এর আগেও একইভাবে সরকারি ওষুধ যমুনা নদীসহ একাধিক স্থানে ফেলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে ওষুধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ কি না এবং কেন সেগুলো নদীতে নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ‘স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া পিকআপ ভর্তি ওষুধ ও চালককে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’