Monday 07 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাগেরহাটে মোবাইলের সূত্রে ৩ খুনের রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৩৩

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা।

বাগেরহাট: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় মা, ছেলে ও নানিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চালু হলে সেটি ব্যবহারের সূত্র ধরেইেএ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

গ্রেফতাররা হলেন-কচুয়া উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৪০), আসাদুল শেখ (৪১) এবং মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু (৩৮)। তারা সকলেই একে অপরের নিকটাত্মীয় এবং নিহতদের প্রতিবেশী।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতারদের কাছ থেকে নিহতদের ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও একটি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে একই পরিবারের তিনজনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের জানান, গত ২ আগস্ট রাতে চান্দেরখোলা গ্রামের নিজ ঘরে খুন হন মনিরা বেগম (৬০), তার ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং মা রাশিদা বেগম (৯৩)। ঘটনার দুদিন পর ৪ আগস্ট তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহত মনিরার বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে জাহিদকে আটক করা হলেও সে মুখ খোলেনি। তবে হাল না ছেড়ে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ দেখতে পায়, নিহত মনিরা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সক্রিয় রয়েছে এবং কেউ তা ব্যবহার করছে। এই সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বাবুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসাদুল শেখকে গ্রেফতার এবং তার কাছ থেকে নিহত আহাদের মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেন, নিহতদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে জাহিদের পরকীয়া সম্পর্ক ফাঁস হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিবাদের সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জাহিদ তার নিকটাত্মীয় আসাদুল ও বাবুকে সঙ্গে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের রূপরেখা তৈরি করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে প্রথমে আহাদকে এবং পরে মনিরা বেগম ও রাশিদা বেগমকে গলায় রশি প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর