Monday 07 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন, বাড়ছে চাষের পরিধি

আশরাফুল ইসলাম জয়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৭

সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ছবি: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জ: এবার সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি জেলার কৃষকেরা। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এই ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। ড্রাগন ফলের চাষ করে অনেক কৃষকের সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। ফলে অনাবাদি ও পতিত জমিও এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ড্রাগন ফলের বাগান তৈরিতে।

জেলার উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়ও তৈরি হচ্ছে ড্রাগন ফলের বাগান।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জেলার নয়টি উপজেলায় ড্রাগন ফল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে এ ফলের আবাদ করেছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৮ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে চাষের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

ড্রাগন ফল চাষে উঁচু, দোআঁশ ও বালিজাতীয় জমি বেশি উপযোগী। সিরাজগঞ্জে বাউ-১, বাউ-২ ও বাউ-৩ জাতের ড্রাগন ফল চাষ হলেও বাউ-৩ জাতের চাষই বেশি হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, ড্রাগন ফলের বাগান তৈরির শুরুতে নির্দিষ্ট দূরত্বে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করে জিআই তারের মাধ্যমে কাঠামো তৈরি করতে হয়। এর পর ওই কাঠামো ঘিরে ড্রাগনের চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের প্রায় ছয় মাস পর গাছে ফুল আসে। ফুল থেকেই পরবর্তী সময়ে ফল পাওয়া যায়। একবার তৈরি করা কাঠামো থেকে ছয় থেকে সাত বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দইভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী ব্রহ্মখোলা গ্রামের কৃষক ও উদ্যোক্তা এস এম ইদ্রিস আলী ড্রাগন ফল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে তিনি বাউ-৩ জাতের ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন।

ইদ্রিস আলী সারাবাংলাকে জানান, ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের ফল চাষ করে আসছেন। তবে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের বাগান করেন। শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে ধীরে ধীরে চাষের কৌশল আয়ত্ত করেন। বর্তমানে ড্রাগন ফলের বাগান থেকে ভালো আয় করছেন তিনি।

সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ছবি: সারাবাংলা

সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ছবি: সারাবাংলা

তিনি বলেন, ‘গতবছর তার বাগানে প্রায় পাঁচ মেট্রিক টন ড্রাগন ফল উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে উৎপাদন আরও বেড়ে প্রায় ছয় মেট্রিক টন হতে পারে বলে আশা করছেন। গতবছর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল গড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।’ এতে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এস এম ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ড্রাগন ফল চাষে শুরুতে কিছু সমস্যা হলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। বাজারে দামও ভালো। এ কারণে ড্রাগন ফল চাষ করে আগের তুলনায় ভালো আয় হচ্ছে।’

একজন কৃষকের সাফল্য দেখে এখন স্থানীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যেও ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে নতুন করে বাগান করছেন। তুলনামূলক কম শ্রমে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকদের কাছে এ ফলের চাষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ড্রাগন ফল চাষের মাধ্যমে এরই মধ্যে অনেক কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি অনাবাদি ও পতিত জমি উৎপাদনের আওতায় আসছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরাও সন্তুষ্ট।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা সারাবাংলাকে বলেন, ‘ড্রাগন একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক ফল। কৃষকদের মধ্যে এ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ড্রাগন ফলের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি অনাবাদি জমিও উৎপাদনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ ও বাজার ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় ড্রাগন ফল এখন লাভজনক ফলের তালিকায় রয়েছে। তবে উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

বাম্পার ফলন, ভালো বাজারদর ও তুলনামূলক বেশি লাভ এই তিন কারণে সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফল চাষের পরিধি বাড়ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের পাশাপাশি উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে ড্রাগন ফল চাষ জেলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর