সিলেট: নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে টানাহেঁচড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতাররা হলেন- শাহজালাল উপশহর এলাকার সি-ব্লক, ৪৪ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাসার মৃত জালাল উদ্দিনের দুই ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার ৫৪ নম্বর বাসার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বুরহান উদ্দিন (৪৫)।
এ বিষয়ে সিলেট শাহপারান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, গত সাড়ে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়দেরর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই মেয়েকে ধরে নিয়ে আসে। তার বয়স ১৫ বছর। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, মেয়েটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে। তবে তারা কেউই আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করননি। এমনকি মেয়েকে থানায় নিয়ে আসার পর তারা কোনো সহযোগিতাও করেননি। পরে মেয়েটিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন, ২০০৯ (SMP Act)-এর ৮৯ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শাহজালাল উপশহরের ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন সড়কে ১৫-১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে এক যুবক টানাহেঁচড়া করছেন। এ সময় কিশোরীকে কাঁদতেও দেখা যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সন্ধ্যার দিকে একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টার সময় কিশোরীকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখার ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে শাহপরাণ থানা পুলিশ ওই রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। যদিও থানায় ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি আটককারীরা।
আইনজ্ঞদের মতে, কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে আটক করতে পারেন। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়া বা নির্যাতন করার এখতিয়ার কারও নেই। কাউকে আটক করা হলে তাকে দ্রুত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হয়। উপশহরে কিশোরীর সঙ্গে শিকল ব্যবহারের ঘটনাটি আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।