Monday 26 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বাড়ছেই, পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:২৬ | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১০

এলাকার পানিবন্দি পরিস্থিতি।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। এতে দুই ইউনিয়নের ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কা হয়ে নেমে আসা উজানের ঢলে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৪ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বেড়েছে প্রায় ৮৮ সেন্টিমিটার।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতেও ঢুকে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাবে, নিম্নাঞ্চলে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে রোপা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘উজানের ঢলে হঠাৎ পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের সবকয়টি গ্রাম ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পানি বৃদ্ধি ও বন্যা দীর্ঘায়িত হলে বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার ও গো-খাদ্যের সংকট আরও তীব্র হতে পারে। পরিস্থিতি উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে।’

দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ বলেন, ‘পানি বাড়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা না হলেও বন্যাকবলিত এলাকার ১৮টি বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ভবনগুলো খোলা থাকবে, যাতে বন্যায় গৃহহীন মানুষেরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কৃষি পরামর্শ দেওয়া হবে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পানিবন্দি মানুষের সহযোগিতা ও নিরাপত্তার জন্য জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, এরইমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের ২৫০ থেকে ৩০০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১-২ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর