কুমিল্লা: কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওরা গ্রামে জমিজমা-০সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ভাই-বোন ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। আহত ফারুক হোসেন আড়াইওরা গ্রামের মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে।
ফারুক হোসেনের স্ত্রী জেসমিন আক্তারের অভিযোগ, তার স্বামীর ছোটো ভাই মাসুক, মাসুকের স্ত্রী সোনিয়া, বোন বেবি আক্তার, ভগ্নীপতি লুৎফর রহমান, বোন মাফিয়া, ভগ্নীপতি খলিলুর রহমান, বোন তাসলিমা আক্তার অপি, ভগ্নীপতি শাহ আলম চঞ্চল এবং ভাগিনা ইশরাত ও ভাগনী তানজিনা আক্তার বিন্তিসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।
জেসমিন আক্তার বলেন, ‘দেবর ও ননদদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তবে আমার স্বামী ফারুক হোসেন তাদের যার যার জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন বহু আগেই। এরপরও কিছুদিন আগে ড্রেনের পানি যাওয়া নিয়ে তারা আমাকে মারধর করেন। পরে এলাকাবাসীর আশ্বাসে আমরা বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার আমাদের জায়গায় বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য আমার স্বামী রাজমিস্ত্রি নিয়ে যান। এ সময় আমার দেবর, তার স্ত্রী, ননদ ও তাদের স্বামী-সন্তানেরা রাজমিস্ত্রিদের মারধর ও হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। পরে আমি ও আমার স্বামী সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আমার স্বামীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।’
তিনি জানান, এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ফারুক হোসেনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ভবনের দ্বিতীয় তলার ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডের মেইল-২৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
ফারুকের স্ত্রী জেসমিনের দাবি, তার স্বামীর অবস্থা গুরুতর। তিনি প্রশাসনের কাছে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধের জেরে মারামারি হয়েছে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি। মামলা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’