রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সায়েন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবা নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। তবে অভিযোগের তিনদিন পর তা প্রত্যাহার করেছেন অভিযোগকারী ওই নারী।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অভিযোগকারী মো. নাসিমা খাতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, লিগ্যাল সেল ও সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি অভিযোগটি প্রত্যাহার করেন।
অভিযোগে নাসিমা খাতুন লিখেছিলেন, ‘প্রফেসর মাহবুবুর রহমান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছর ধরে যৌন সম্পর্ক করেছেন, কিন্তু এখন বিয়ে নিয়ে তালবাহানা করছেন। তাই আমার অভিযোগ আমলে নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানাই।’
অভিযোগকারী সাংবাদিকদের জানান, তাদের বাসা একই এলাকায় এবং তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিল। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি মেয়েকে নিয়ে রাজশাহীতে থাকেন। পরিচিত হওয়ার সুবাদে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হতো তার।
তিনি আরও জানান, কিছুদিন পর অধ্যাপক মাহবুব তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তার স্ত্রী ও সন্তান বিদেশে থাকেন এবং তাদের সঙ্গে পাঁচ বছর ধরে তার কোনো সম্পর্ক নেই—এমনটি তিনি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন নাসিমা খাতুন।
অভিযোগকারী বলেন, ‘কিছুদিন পর আমার মেয়ে গ্রামের বাসায় গেলে তিনি আমাকে তার বাসায় ডাকেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করেন। এরপর আরও দু’-তিনদিন আমাকে বাসায় নিয়ে যান এবং আমি বিয়ের কথা বললে একদিন আমাকে থাপ্পড় দেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তিনি আমাকে বিয়ে করতে রাজি হন। এরপর তিনি আমার বাড়িতে গিয়ে আমার কাছে মাফ চেয়ে বিয়ে করেন। সে সময় পাঁচজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে একজন আমাদের বিয়ে পড়ান। তবে পরদিন কাবিন রেজিস্ট্রির সময় তার আগের বৈবাহিক অবস্থার বিষয়টি সামনে এলে তিনি কাবিননামায় স্বাক্ষর না করেই চলে যান। এখন তিনি আমাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিচ্ছে না। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই এটাই আমার দাবি।’
তবে অভিযোগ প্রত্যাহারের চিঠিতে নাসিমা খাতুন লিখেছেন, ‘প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আমি অবৈধ সম্পর্কের যে অভিযোগটি করেছিলাম, সেটা ব্যক্তিগত ঝামেলা এবং অন্যদের প্ররোচনায় করা হয়েছিল। উনি সম্পূর্ণ নির্দোষ, আমার আর কোনো অভিযোগ নেই, আমি অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিলাম।’
এ বিষয়ে নাসিমা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এখন সব ঠিক হয়ে গেছে। আপনাদের কিছু করতে হবে না।’
তাদের বিয়ে পড়ানো ওই সাবেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সেদিন পাঁচজন উপস্থিত ছিলাম। তাদের বিয়ে হয়েছিল। মাঝে একটা সমস্যা হয়েছিল, তা এখন মিটমাট হয়ে গেছে।’
অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের সভাপতি। পাশাপাশি তিনি রাজশাহী জেলা জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সভাপতি ও রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে কল কেটে দেন। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগপত্রটি আমরা পেয়েছি। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। প্রাথমিক সত্যতা পেলে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।’